Skip links

মেন্টাল গ্রোথ: একটি ‘ডান্ডিফটাস’ গল্প

যুক্তপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত দিপ্র হাসান এর "ডান্ডিফটাস" গল্প সংকলন থেকে সংকলিত

পড়তে সময় লাগবে: 4 মিনিট

২০০৮ সাল। ঢাকায় নতুন এসেছি। থাকি বাংলা বাজার। সকাল হলে জগন্নাথের সামনে থেকে ইউনাইটেড বাসে করে শাহবাগ আসি। পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়াটরা চালাই। বিকেল হইলে শিল্পকলা ঘুরি। টিএসসিতে আড্ডা মারি।

তখন একটা গ্রুপ সন্ধ্যার পর নিয়মিত টিএসসিতে গলা ফাটায়া গান গাইত। আমি ওদের ফলো করি। গুনগুন করি।

একদিন শিল্পকলায় এক মেয়ে আমারে থামাইলো। আমি মেয়েটার চোখের দিকে তাকাইলাম। মনে হইল, আগেও কোথাও দেখছি। মেয়েটা আমার মুখের সামনে তুড়ি মাইরা বলল, চিনেন আমারে? কইলাম, মনে করতে পারতেছি না। সে কইল, আজ আমি চারটা জায়গায় ছিলাম। কলাভবন, টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি আর শিল্পকলা। আপনারে তিন জায়গায়ই পাইলাম। কারণ কি? ফলো করতেছেন কেন আমারে?

আমরা শিল্পকলার চিলেকোঠায়। আরো সাত আটটা ছেলে মেয়ে আমাদের ঘিরে দাঁড়াইছে। আমি সবার মুখের উপর চোখ বুলাইয়া নিয়া মেয়েটার দিকে তাকাইলাম। বললাম, কোন গ্রুপে কাজ কর তুমি? মেয়েটা চুপ। চোয়ালে চোয়াল চেপে রাখছে। একটা ঝড় চলতাছে মেয়েটার মইদ্যে। সে নিশ্চিত আমি তারে ফলো করতেছি। বাট আমার ড্যাম কেয়ার ভাব দেইখা আগ বাড়াইয়া কিছু করার সাহসও পাচ্ছে না।

বললাম, আজ ছয়টা জায়গায় আমি ছিলাম। এর মইদ্যে পাঁচটা জায়গায়ই ঝুনা চৌধুরীর সাথে আমার চোখাচোখি হইছে। এরে তুমি কি বলবা? কে কারে ফলো করতেছে? মেয়েটা বলল, আপনারে আমি টিএসসি অনেক দিন দেখছি আমার দিকে তাকায়া থাকতে! আমি অবাক হইয়া কইলাম, টিএসসির মত খতরনাক জায়গায় আমি তাকায়া থাকব মাইয়াদের দিকে? আমারে কি কুত্তায় কামড়াইছে?

মেয়েটা এবার বলল, আপ্নে গতকাল একটা হলুদ গেঞ্জি পরছিলেন? বললাম, হ্যাঁ পরছিলাম। তো? সে বলল, টিএসসির ক্যাফেটেরিয়ার পাশে একা বইসা ছিলেন! বললাম, হ্যাঁ ছিলাম। সে বলল, আপনার পাশে একটা দল গান করতেছিল। বললাম, তার মানে তো তুমি আমারে ফলো করতেছ? সে বলল, আমি তখন গান গাচ্ছিলাম আর আপনি ক্যাবলার মত আমার দিকে তাকায়া ছিলেন!

সাথে সাথে আমি চোখ বন্ধ কইরা আগের দিনের মেয়েটার চেহারা মনে করার চেষ্টা করলাম। সব মনে আছে। অনেক দিন মেয়েটার গান শুনছি। কাল পরছিল লাল শাড়ি। গলায় মাটির গহনা। নাকে বড় নাকফুল। হাতে ব্রেসলেট। উদ্ভট সাজ। চোখ খুইলা কইলাম, কাইল যে মেয়েটা লাল পাহাড়ের দেশে যা গাইছিল, তুমি কইতাছ তুমিই সে মেয়ে?

এবার ওর আশপাশের সবাই হা হা হি হি কইরা হাইসা দিল। মেয়েটার মুখেও হাসি। কইল, আপনি বলতে চান আমি সেই মেয়ে না? কইলাম, তারে তো আমি চিনি। অনেকদিন ওদের গান শুনছি। কিন্তু তোমারে তো চিনি না। মেয়েটা তার দলবল সহ হাসতে হাসতে চইলা গেল।

পরদিন থেকে ওই এলাকা মাড়ানো বন্ধ কইরা দিলাম। বড় একটা ফাঁড়া থেকে বাঁচছি। আর যেন ঝামেলায় না পড়ি। মেয়েদের চেহারা আমার মনে থাকে না, ওদের মনে রাখি সাজ পোশাক দেইখা। ফলে প্রায়ই ভুল করি। আর কোন ভুল করতে চাই না।

গল্পটি পড়তে কি আপনার ভালো লাগছে? তাহলে পড়তে পারেন যুক্তপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত দিপ্র হাসান এর “ডান্ডিফটাস” গল্প সংকলনটি। গল্পটি মূলত এই বই থেকেই সংকলন করা হয়েছে।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে
দিপ্র হাসান এর গল্প সংকলন ডান্ডিফটাস এর প্রচ্ছদ

মাস ছয়েক পরে এক দোস্তের পাল্লায় পইরা ময়ুর সিংহাসন দেখার লাইগা আবার শিল্পকলায় গেলাম। শোর মাঝখানে দোস্ত প্রস্রাব করার লাইগা উঠতেই এক মাইয়া আইসা বসল পাশে। বলল, মোবাইলটা দেন। আমি দিলাম। সে আমার মোবাইল থেকে নিজের নাম্বারে ফোন দিল। তারপর বলল, এ ছয়মাস কোন চুলায় ছিলেন?

আমি বুঝলাম আবারও সেই মাইয়ার কবলে পড়ছি। বললাম, কিন্তু আজকে তো আমি আর কোথাও যাইনি। ডাইরেক্ট এইখানে আসছি। আর কালকে টিএসসিও ছিলাম না। সুতরাং ফলো করতেছি এই কথা বলতে পারবে না।

মেয়েটা আমার হাত ধরে বলল, বাইরে চলেন কথা আছে। আমি আবার চোখ বন্ধ কইরা মনে করার চেষ্টা করলাম ওরে ইদানীং কোথাও দেখছি কিনা! বাট মনে করতে পারলাম না। ও দাঁড়ায়া হাত ধইরা টান দিল। সিন ক্রিয়েট হবার ভয়ে আমি ওর পিছু পিছু চললাম।

হাত ধইরা টানতে টানতে দোতলায় নিয়া গেল। আশপাশে কেউ নাই। চারদিকে তাকায়া বলল, এই ছয় মাস কোন চুলায় ছিলেন বললেন না? বললাম, বনলতা সেন এই প্রশ্নটাই করছিল এইভাবে- এতদিন কোথায় ছিলেন? ও বলল, আমিও বনলতা সেন না আর আপনিও জীবুদা না।

বললাম, মেয়েদের চেহারা আমার মনে থাকে না। তবে এটা বুঝতে পারছি চিলেকোঠায় যে মেয়েটা আমাকে ফলো করার অপবাদ দিছিল তুমিই সেই মেয়ে। ও বলল, তারপর থেকে আর আসেননি কেন গান শুনতে? বললাম, গান শুনতে গিয়া ফলো করার অপবাদে মাইর খাওয়ার ইচ্ছা ছিল না তাই।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়েটা বলল, আমার এখন কি ইচ্ছা করতেছে জানেন? জিগাইলাম, কি? ও বলল, ধাক্কা দিয়া চিলেকোঠা থেকে আপনারে নীচে ফালাই দিতে! বললাম, ঠিক আছে আমি চইলা যাইতেছি। আর আসব না এদিকে।

মেয়েটা শক্ত করে আমার হাত ধরল। বলল, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে একটা মানুষের যেমন ন্যুনতম কিছুটা মেন্টাল গ্রোথ দরকার- শিল্পকলা, টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি এসব এলাকায় আড্ডা দিতেও তেমনি ন্যুনতম মেন্টাল গ্রোথ দরকার। আপনার দেখছি তা মোটেও নাই!

মেজাজ সপ্তমে চইড়া গেল। ঝাড়া দিয়া হাত ছাড়ায়া নিয়া বললাম, কি বালের মেন্টাল মেন্টাল করতেছ? দুইশ টাকা দিয়া টিকিট কাটছি নাটক দেখার লাইগা। তোমার কচকচানি শোনার লাইগা না! বইলা ওরে পাশ কাটাইয়া সিঁড়ির দিকে পা বাড়াইলাম।

মেয়েটা পেছন থেকে বইলা উঠল, এই কুত্তা! যদি এক পাও সিঁড়িতে দিছস আজকা তোরে খায়া ফালামু! এই সারছে! এইটা কি ছাত্রলীগের মাস্তান নাকি! ভয়ে ভয়ে ঘুইরা ওর দিকে তাকাইলাম।

মেয়েটার চোখে পানি। আমাকে থামতে দেখে, পেছনে তাকাতে দেখে ওর ঠোঁটে হাসি ফুটল। বলল, ছয় মাস আমি জ্বলছি। এখন থেকে প্রতিদিন তোমারে জ্বালামু!



গল্পটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে পড়তে পারেন যুক্তপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত দিপ্র হাসান এর “ডান্ডিফটাস” গল্প সংকলনটি। গল্পটি মূলত এই বই থেকেই সংকলন করা হয়েছে।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

আপনার মন্তব্য লিখুন