Skip links

আর্থিক ও বৈষয়িক সফলতা অর্জনের উপায়

সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত নেসার আমিনের "সাফল্য অর্জনের উপায়" বই থেকে সংকলিত

পড়তে সময় লাগবে: 24 মিনিট

সফল হওয়ার বিশটি উপায় ও পঁচিশটি সূত্র

সফল হওয়ার রাস্তার সন্ধান পাওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। অনেকেই সারা জীবন এ পথের সন্ধানে কাটিয়ে দেন, কিন্তু সফল হতে পারেন না। তবে কিছু উপায় রয়েছে যা আপনাকে অপ্রত্যাশিতভাবে সফল করে তুলতে পারে।

নিম্নে বিজনেস ইনসাইডার-এর এক প্রতিবেদনের সফল হওয়ার বিশটি উপায় তুলে ধরা হলো:

এক. জন্ম তারিখ

জন্ম তারিখ অপ্রত্যাশিতভাবে অনেকের সাফল্য এনে দিতে পারে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিভিন্ন রাশি কিংবা মাসের কথা, যাদের সাফল্য অন্যদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে গবেষকরা কিছু ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। যেমন কোনো বছর শুরুর আগে যে শিশুরা জন্ম নেয় তারা লেখাপড়া শুরুর সময় অন্য শিশুদের তুলনায় সাবালক হতে কিছুটা বেশি সময় পায়। এতে তারা বিভিন্ন দিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকে এবং আদতে জীবনের নানা ক্ষেত্রেও অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যায়।

দুই. পরিবারের বড় ভাই

আপনি যদি পরিবারের বড় ভাই হন, তাহলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণ পরিবারের বড় ভাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে পছন্দ করে। আর এ কারণে তার সাফল্য পাওয়ার হারও বেশি।

তিন. ছোটবেলার স্কুল

এ বিষয়টি বহুদিন ধরেই দেখা যায় যে, ব্যয়বহুল স্কুল থেকে পড়াশোনা করেও শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশ করে তাদের সাফল্য একই থাকে। তবে প্রায়ই সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের পথে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যায়।

চার. অঙ্কের মাথা

স্কুলে যারা অঙ্কে ভালো হয়, তারা বাস্তব জীবনে নানাক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। অঙ্কে ভালো ফলাফল শুধু মেধাই নির্দেশ করে না এটি বিজ্ঞানে শিশুকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ যোগায়। আর এ কারণে শিশু যদি অঙ্কে ভালো হয়, তাহলে পেশাজীবনেও সে ভালো একটি স্থান অর্জন করে।

পাঁচ. ছোটবেলায় খেলাধুলা

খেলাধুলা শুধু শরীরের নয়, মনের জন্যও উপকারী। শিশুর মেধা বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যে শিশুরা খেলাধুলায় অভ্যস্ত হয়, তাদের মেধাও ভালো হয়। বড় হয়ে তারা যথেষ্ট সফলতাও লাভ করে।

ছয়. সামরিক বাহিনীর কাজ

দেখা গেছে যারা সামরিক বাহিনীর কাজে নিয়োজিত থাকেন তারা পরবর্তীতে নানা ধরনের কাজে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে যান। আর এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নেতৃত্ব দেয়ার কাজে পরবর্তীতে সফল হন।

সাত. ভালো ঘুম

ভালোভাবে ঘুমের ওপর নির্ভর করে অনেকেরই স্বাস্থ্যগত উন্নতি ও মানসিক সুস্থতা দেখা যায়। এ কারণে যাদের ভালো ঘুম হয়, তাদের সাফল্যও বেশি থাকে।

আট. ভালো বসে সাফল্য

কর্মজীবনে যারা ভালো বস পান, তারা জীবনে সফল হয়ে থাকেন। নানাভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা কিংবা প্রণোদনার মাধ্যমে ভালো কাজ আদায় করে নেন ভালো বসেরা। আর এতে আদতে লাভবান হন কর্র্র্মীরা।

নয়. লম্বা মানুষ

গবেষণায় দেখা গেছে, লম্বা মানুষেরা খাটোদের তুলনায় ভাগ্যবান হয়ে থাকে আয়ের দিকেও। নানা যোগ্যতার কারণে তাদের আয় বেশি হয়, যা অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের এগিয়ে রাখে।

দশ. সুদর্শন মানুষ

সুদর্শন মানুষ স্বভাবতই অন্যদের মন জয় করেন। আর এটি তাদের অন্য মানুষের সহানুভূতি ও মনোযোগ আকর্ষণে সহায়তা করে। আর এ গুণটি অন্যদের তুলনায় সফল হতেও সহায়তা করে।

এগারো. রসবোধ

সঠিকভাবে ‘সেন্স অব হিউমার’ থাকলে মানুষ সফল হয়ে ওঠেন। এ কারণে যাদের রসবোধ রয়েছে, তারা অন্যদের তুলনায় সফল হয়ে ওঠেন।

বারো. সঠিক পোশাক

পোশাক মানুষকে নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে দেয়। যারা সঠিকভাবে পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তারা স্বভাবতই অন্যদের তুলনায় জীবনের নানান ক্ষেত্রে এগিয়ে যান।

তেরো. বিবাহিত হওয়া

পুরুষের সাফল্যের ক্ষেত্রে বিবাহিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত পুরুষকে অন্যরা দায়িত্ববান বলে মনে করে। আর এ কারণে বিবাহিত পুরুষের বেতনও বেড়ে যায়।

চৌদ্দ. নিয়ম ভঙ্গকারী শিশু

যে শিশুরা নিয়ম ভঙ্গ করতে ভালোবাসে তারা বড় হয়ে যে পিছিয়ে থাকে, তা নয়। দেখা গেছে, যারা ছোটবেলায় নিয়ম ভঙ্গ করতো তারা বড় হয়ে যথেষ্ট মেধার পরিচয় দেয় এবং নানান ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে।

পনের. নিজের গুণমুগ্ধ

নিজের গুণে নিজেই মুগ্ধ মানুষেরা প্রায়ই সাফল্য পান। মানুষের ব্যক্তিত্বের এ বিষয়টি প্রায়ই অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। যারা নিজের গুণমুগ্ধ তারা চাকরির সাক্ষাৎকার কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের গুণগান গাইতে পারদর্শী হন। এটি তাদের সামনে এগিয়ে নেয়।

ষোল. বিশ্বাসভাজন চেহারা

কারো কারো চেহারাতেই বিশ্বাসভাজন একটি ভাব উঠে আসে। আর এটি তাদের সাফল্যের পথেও অনেকদূর এগিয়ে নেয়। বহু মানুষই এ ধরনের মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসে।

সতের. গভীর কণ্ঠ

কিছু মানুষের কণ্ঠেই যেন নেতৃত্ব প্রকাশ পায়। এ ধরনের মানুষকে অন্যরা নেতৃস্থানীয় হিসেবেই দেখতে ভালোবাসে। আর এ কারণে তারা প্রায়ই জীবনে উচ্চতর স্থানে চলে যায়।

আঠারো. হালকা-পাতলা

ওজন যাদের বেশি, তাদের চাকরি জীবনে সাফল্যের হার হালকা-পাতলা মানুষদের তুলনায় কম। ভারী দেহের অধিকারীদের চাকরি পাওয়া কঠিন বলেই জানা গেছে গবেষণায়।

ঊনিশ. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা

যাদের মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বেশি তারা স্বভাবতই নেতৃত্বের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকেন। এ কারণে দেখা যায় মানসিক চাপ যাদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না, তারা উচ্চতর অবস্থানে চলে যান।

বিশ. বহির্মুখী চরিত্র

অন্তর্মুখী চরিত্রের মানুষেরা সাধারণত নিজের মাঝে গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। আর এ কারণে তারা প্রায়ই নানান ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন। তবে বহির্মুখী চরিত্রের মানুষেরা বহু মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন এবং নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে যান। এটি তাদের সাফল্যও এনে দেয়।

সাফল্য বা সফলতা অর্জনের উপায়

Image Course: henryharvin.com

নিম্নে সফলতা পাওয়ার পঁচিশটি সাধারণ সূত্র তুলে ধরা হলো:

এক. ভিশন ও পরিকল্পনা তৈরি করুন

সফল হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে প্রথমত নিজের আয়নার সামনে দাঁড়াতে হয়। নিজের সামর্থ্য ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিনতে হয়, জানতে হয় নিজের আগ্রহের জায়গা সম্পর্কে। এরপর ব্যক্তিকে একটি রূপকল্প (ভিশন) দাঁড় করাতে হয় তিনি জীবনে কী হতে চান বা করতে চান। তারপর সেই রূপকল্পের ভিত্তিতে একটি কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করে কাজ করতে হয়।

দুই. জীবন সহজ নয় – এটা মেনে নিন

আপনি যত কঠোর পরিশ্রম করুন না কেন, এমন একটা সময় নিশ্চয়ই আসবে যখন সবকিছু আপনার মনের মতো হবে না, সব কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। আপনি হোঁচট খাবেন, পড়ে যাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনাকে আবারো দাঁড়াতে হবে। এটাই চরম সত্য যে, জীবনের কঠিন সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। একনিষ্ঠভাবে স্বপ্ন পূরণের পথে সময়ের অপচয় না করে এগিয়ে যান, সাফল্য ঠিক সময়েই আপনার দরজায় এসে কড়া নাড়বে।

তিন. দৃঢ প্রতিজ্ঞ হোন

প্রত্যেক সফল মানুষই একটি ব্যাপারে জোর দিতে বলেন। তা হলো – ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’ হওয়া। প্রতিজ্ঞা আসে ভালোবাসা থেকে। কাজের প্রতি প্রচ- ভালোবাসা তৈরি করুন। আপনি যে কাজটি করছেন, তার প্রতি আপনার ভালোবাসা থাকতে হবে। সফল মানুষেরা একমাত্র ভালোবাসা দিয়েই প্রতিটি কঠিন কাজকে সহজ করে ফেলেন।

চার. আপনি নিজেই নিজের ‘বস’ (নিয়ন্ত্রণকারী)

স্বপ্ন পূরণের পথে অন্যকে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকুন। নিজেই এমন কিছু করুন যাতে অন্যরা আপনাকে অনুসরণ করে। প্রতিটি মানুষের স্বকীয় সত্তা ও চিন্তাশক্তি রয়েছে। নিজের স্বকীয়তাকে কাজে লাগান। দেখবেন, একটা সময় যাকে আপনি অনুসরণ করার কথা চিন্তা করেছিলেন, জীবন যুদ্ধে তার থেকেও আপনি অনেক এগিয়ে গেছেন।

চার. জেদী এবং নমনীয় – দুটোই হোন

আপনার লক্ষ্যের প্রতি আপনাকে হতে হবে জেদী আর লক্ষ্য অর্জনে হতে হবে নমনীয়। যদি আপনি জেদী না হন, তাহলে গবেষণামূলক কাজগুলোতে সফলতা না পেলে আপনি হাল ছেড়ে দেবেন। আবার যদি জেদী কিন্তু নমনীয় না হোন, তবে আপনি নতুন নতুন পন্থায় গবেষণা না করে বরং সফল না হলে দেয়ালে মাথা ঠুকবেন এবং পরে আবার গিয়ে সেই পুরনো পন্থায়েই আবার গবেষণা করতে যাবেন।

পাঁচ. সর্বদা ঝুঁকি গ্রহণ করতে হবে

যদি আপনার কাছে ব্যবসায়ের নতুন কোনো আইডিয়া থাকে এবং সেখানে যদি কোনো ঝুঁকি না থাকে, তাহলে ভাবতে হবে ইতোমধ্যে তা হয়ে গেছে। কিন্তু আপনাকে এমন কিছু চিন্তা করতে হবে যা হয়তো বাস্তবায়ন না হতে পারে, ঝুঁকি আছে। আর এটিই হতে পারে একটি নতুন উদ্ভাবনী কিছু। আমরা সবসময় ঝুঁকি গ্রহণ করি, কারণ আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলো নিয়েই কথা বলি, যা থেকে নতুন কিছুর আবিষ্কার হয়।

ছয়. নিজের ওপর বিনিয়োগ করুন

ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে আপনার সাফল্য। প্রথমত নিজের দক্ষতার ওপর বিনিয়োগ করুন। আপনার দক্ষতা যত বাড়বে, আপনার ব্যবসাও তত সৃজনশীল হবে। অন্যকে অনুসরণ করবেন না। সমাজের দেখানো পথ অনুসরণ করা খুব সহজ। কিন্তু এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রথা ভেঙে সত্যিকারের নিজেকে খুঁজে বের করা। যাকে বলে স্বাতন্ত্র্য।

সাত. ভুল থেকে শিখুন

সফল মানুষেরা যে জীবনের শুরুতেই শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন তা নয়। তারাও ভুল করেছেন। এমনকি ব্যবসায়িক জীবনেও তারা বড় বড় ভুল করেছেন। তবে তারা ভুল থেকে শিখেছেন। আমরা জীবনে সব ভুল এড়াতে পারবো না, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভুলগুলো থেকে দ্রুত শিখতে হবে এবং ব্যর্থতা আসলে হাল ছাড়া যাবে না। আমাদের বিশ্বাস করা উচিত যে, কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত প্রতিবন্ধকতাগুলো এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

আট. একটি বড় স্বপ দেখুন এবং উচ্চাভিলাষী হন

এমন কিছু তৈরি করুন যা বিশ্বে সত্যিই বড় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায় এবং অনাগত বহু প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে। বড় স্বপ্ন দেখুন। মানুষের জীবনমানের উন্নতিতে অবদান রাখুন। আপনি কী অর্জন করতে চান সে সম্পর্কে শিখুন এবং একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করুন। ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন, কিন্তু মনের মধ্যে উন্নত চিন্তা পোষণ করুন।

নয়. নিজেকে বিশ্বাস করুন এবং কেন্দ্রীভূত (ফোকাস) থাকুন

আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে কখনও সন্দেহ পোষণ করবেন না এবং কাউকে কখনও আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করার সুযোগ দেবেন না। যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনার ব্যবসা ও গ্রাহকের সেবার মান উন্নত করার জন্য নিরলসভাবে মনোনিবেশ (ফোকাস) করুন। আপনি যে কাজ করছেন তাতে বিশ্বাস রাখুন।

দশ. সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন, পরিশ্রম করুন

আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। আপনি যা চান তা অর্জন করতে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করুন। কারণ কঠোর পরিশ্রম ছাড়া অতি সহজে কোনো সাফল্য পাওয়া যায় না। আপনার স্বপ্নকে সফল তৈরি করে তোলার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকুন।

এগারো. আপনার আগ্রহের ক্ষেত্র খুঁজে বের করুন

আপনি কোন বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী তা খুঁজে বের করুন। আপনি যে কাজ করবেন সেটাকে ভালোবাসুন। যদি তা না হয়, তাহলে মনে হবে আপনি নিজের ওপর জোর খাটাচ্ছেন। এভাবে হয়তো কিছুদিন চলতে পারবেন। কিন্তু যখন কঠিন সময় আসবে, তখন আর সামলাতে পারবেন না। অতএব, সেই কাজই বেছে নিন, যেটা আপনি সহজাতভাবেই পছন্দ করেন। হোক সেটা গান, গণিত কিংবা মহাকাশবিদ্যা।

অনেকেই নিজের ভালো লাগার জায়গাটা ধরতে পারেন না, দ্বিধায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরুন এবং লক্ষ করুন কোন কাজটিতে আপনি সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন। নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। শিগগিরই পছন্দের জায়গাটা ধরতে পারবেন। যদি আপনি কাজটাকে ভালোবাসেন, তাহলে নিশ্চয়ই কাজের সময় ছাড়াও আপনি এটা নিয়ে ভাববেন। আপনার মস্তিষ্ক এই ভাবনার সঙ্গে অভ্যস্ত। আর যদি পছন্দ না করেন, জোর করে এটা সম্ভব নয়।

বারো. সমালোচনাকে উপেক্ষা করুন

আপনার কান ও মনকে আশার বাণী দিয়ে ভরাট করুন। সমালোচক এবং নিন্দুকদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। আপনার নিজের সংগীতে নাচুন এবং জীবনে কিছু ঝুঁকি গ্রহণ করুন। কারণ প্রায়শই ঝুঁকি গ্রহণকারীরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেন। যিনি উদ্ভাবন করেন তিনি বিশ্বের জন্য এমন কিছু তৈরি করেন যা জীবনের জন্য প্রয়োজন এবং লাখ লাখ জীবনের মঙ্গলে অবদান রাখে।

তেরো. শেখা বন্ধ করবেন না

লেখাপড়া করা কখনই বন্ধ করবেন না। সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ হলো ‘কেন’। নতুন নতুন বিষয় অনুসন্ধানের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই। পৃথিবী এমন লোকদের দ্বারা পূর্ণ যারা শেখা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং ভাবেন যে তারা ইতোমধ্যে সবকিছু জেনে গেছেন। কোনো সন্দেহ নেই, আপনি ইতোমধ্যে এধরনের বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও অনেকের সঙ্গে দেখা পাবেন। তাদের প্রিয় শব্দ হলো ‘না’। তারা আপনাকে দশ লাখ কারণ দেখাবে কেন কিছু করা উচিত নয়। তবে তাদের কথায় কান দেবেন না এবং তাদের একজন হয়ে উঠবেন না, কোনো ক্ষেত্রেই না – আপনি যদি নিজের সম্ভাবনায় পৌঁছাতে চান বা সমাজ-রাষ্ট্রের উন্নতি করতে চান।

চৌদ্দ. নিজের জন্য কাজ করুন

অন্যরা আপনার কাজকে কীভাবে দেখবে সেটা নিয়ে না ভেবে বরং নিজের জন্যই কাজ করুন। অন্যদের আপনাকে যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে নিজেই নিজেকে যাচাই করুন। আপনি কখনোই সফল হতে পারবেন না, যদি আপনি আপনার কাজকে না ভালোবাসেন এবং নিজের জন্য কাজ না করেন।

পনের. বাজে পণ্য বা সেবা বিক্রি করবেন না

আপনি যখনই কোনো বাজে পণ্য অথবা সেবা বিক্রি করবেন, আপনার ব্র্যান্ডের সুনাম নষ্ট হয়ে যাবে। তাই কখনও ক্রেতাদেরকে ঠকাবেন না। বরং সবসময় চেষ্টা করুন তাদেরকে সবচেয়ে ভালোটা দিতে। গ্রাহক আপনার কাছ থেকে ভালো পণ্য ও সেবা পেলে আপনার ব্যবসায়ের সুনাম বাড়বে এবং ব্যবসায়ের প্রসার ঘটবে।

ষোল. একটা শক্তিশালী দল গঠন করুন

কোনো ভালো কাজই একা করা সম্ভব নয়। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা চালাতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই একটা শক্তিশালী দল গঠন করতে হবে। আপনার সাফল্য অথবা ব্যর্থতা নির্ভর করবে এই লোকদের উপরেই।

সতের. কোনো কাজ শেষ হলেই পরের ধাপ নিয়ে ভাবুন

আপনি একবারেই পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন না। আপনাকে কাজটিতে ধাপে ধাপে এগোতে হবে এবং একটা সময়ে আপনি কেবল একটা ধাপ নিয়েই কাজ করবেন। সেই ধাপটি সম্পন্ন হলেই আপনি তার পরের ধাপ নিয়ে ভাববেন, তার আগে না।

আঠারো. মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করুন

স্রেফ নিজের কথা না ভেবে বরং এমন কিছু করুন যাতে অন্য মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটে, মানুষের উপকার হয়। তাহলে এতে আপনি অন্যের সহায়তা পাবেন এবং আপনার কাজের মধ্য দিয়ে আপনারও বিকাশ হবে।

ঊনিশ. ইতিবাচক দৃটিভঙ্গি গ্রহণ করুন

কাজের যে কোনো ক্ষেত্রে আপনার দৃটিভঙ্গি হতে হবে ইতিবাচক। মনে রাখবেন, যে ভবিষ্যৎ আপনি দেখতে পাচ্ছেন, তা আর কেউ দেখতে পাচ্ছে না। তাই মানুষ আপনার কাজ নিয়ে অনেক কথাই বলবে। তাই সেগুলো নিয়ে চিন্তিত না হয়ে বরং ইতিবাচক জায়গা থেকে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন।

আমাদের উদ্দেশ্য যেন সবসময় সৎ হয়। যোগাযোগ দক্ষতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো সততা। আমাদের কারো কথা বলার দক্ষতা ভালো না হলেও কথার মধ্যে যেন সততা থাকে। আমাদের উদ্দেশ্যটা যেন সঠিক হয়, তাহলে সামনের জন সেটা অনুভব করতে পারবেন।

বিশ. রুটিনমাফিক চলুন

জীবনে রুটিন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এলোমেলো কাজ করে কেউ কোনোদিন সামনে অগ্রসর হতে পারেনি। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রুটিনমাফিক চলুন।

একুশ. নিজেকে ধাক্কা দিন

সবসময় যে শুধু কর্মচারীদেরই ধাক্কা দিতে হয় তা কিন্তু না, আপনার নিজের মাঝেও কিন্তু আলস্য বা দোলাচল আসতে পারে। তাই সব ঝেড়ে ফেলে মাঝে মাঝেই নিজেকে একটা জোরে ধাক্কা দিন, নিজের মধ্যে কাজ করার অনুপ্রেরণা তৈরি করুন।

বাইশ. ধীরে ভাবুন, দ্রুত পদক্ষেপ নিন

প্রয়োজন অনুভব করার আগে থেকেই আপনাকে চিন্তা করা শুরু করতে হবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে সেটা কার্যকর করতে হবে দ্রুত। কারণ, নতুনকে স্বাগত জানাতে হলে, এগিয়ে থাকতে হলে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সময় নেয়া যাবে না।

তেইশ. হাল না ছাড়া

আমরা যখন কাজ করি, তখন আমাদের মনে ব্যর্থতার কোনো প্রশ্নই থাকা উচিত না। হয় আমরা কাজটি করবোই না। অথবা যখন করবো তখন ছাড়বোই না, যতক্ষণ না সেটাতে সফলতা পাচ্ছি। যতক্ষণ না স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ হাল ছাড়বো না।

চব্বিশ. ইতিবাচক ও সৃজনশীল হোন

প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার চেয়ে সৃজনশীল হন। সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই সক্রিয় হোন এবং সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান করুন। ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তা অনুমান করার সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

পঁচিশ. সময় নষ্ট না করা

একটা কথা সবসময়ই মাথায় রাখবেন যে, সময়ই হলো অর্থ। তাই আমাদের কখনই কোনোভাবে বাজে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। আমাদের সর্বদা কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত, সময় নষ্ট করার বদলে। আর এমনিতেও কথায় আছে – ‘খালি মস্তিষ্ক হলো শয়তানের ঘর’ কিংবা ‘অলস মানুষ শয়তানের ভাই’। আমরা যখন অলস হয়ে বসে থাকি, তখন বেশিরভাগই আমরা ভালো সব কাজ করার বদলে খারাপ কাজই বেশি করি। যেমন, অতিরিক্ত সময় ধরে ফোন ঘাটা, কম্পিউটারে অনবরত গেমস খেলা অথবা টেলিভিশনে সারাক্ষণ ধরে সিরিয়াল দেখা ইত্যাদি। এসব করার ফলে আর কিছু না হোক, আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে দিকভ্রষ্ট হয়েই যাবো পুরোপুরি এটা নিশ্চিত।

আর্টিকেলটি পড়তে কি আপনার ভালো লাগছে? তাহলে পড়তে পারেন সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত নেসার আমিন এর “সাফল্য অর্জনের উপায়: জীবনের ৮৫টি ক্ষেত্রে দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি এবং সফল হওয়ার উপায়” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার বারোটি উপায়

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায় জানতে হলে আপনাকে সত্যিকার সফল উদ্যোক্তাদের কাছেই যেতে হবে। একাডেমিকরা হয়তো আপনাকে তত্ত্ব বলতে পারবেন, হিসাব দেখাতে পারবেন। কিন্তু সত্যিকার জীবনে যারা সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন, তারাই শুধু সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সত্যিকার মূলমন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাই একাডেমিক বা ইন্সটিটিউশনাল জ্ঞানগুলোকে বাস্তব জীবনে সত্যিকার কাজে লাগানোর জন্য আপনাকে সত্যিকার সফল উদ্যোক্তাদের কাছেই যেতে হবে।

লেখক, সাংবাদিক, ও গবেষক কেভিন ক্রুজ রিচার্ড ব্র্যানসন, ওয়ারেন বাফেট-সহ বর্তমান সময়ে জীবিত ২০০ জন সফল উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তিনি সবাইকেই খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন করেছেন: ‘আপনার অসাধারণ কর্মক্ষমতার পেছনের এক নম্বর কারণটি কী?’ এর উত্তর একেকজন একেকভাবে দিয়েছেন, তবে এর মাঝে ১২টি বিষয় সবচেয়ে বেশি বার উঠে এসেছে এবং সাক্ষাৎকার দেয়া প্রায় সবাই এর কোনো না কোনোটি অনুসরণ করেন।

এই বিষয়গুলো নিয়ে কেভিন ‘বিজনেস ইনসাইডার’-এ একটি নিবন্ধ (আর্টিকেল) প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেছেন। 

নিম্নে কেভিন ক্রুজ বর্ণিত সফল উদ্যোক্তা হওয়ার বারোটি উপায় বা মূলমন্ত্র তুলে ধরা হলো:

এক. সফল উদ্যোক্তারা ঘণ্টার বদলে মিনিট হিসাব করে কাজ করেন

বেশিরভাগ মানুষ ঘণ্টা হিসাব করে কাজ করেন। এমনকি উদ্যোক্তারাও দিনে কয় ঘন্টা কাজ করলেন – এটাই হিসাব করেন। কিন্তু ক্রুজ-এর ভাষায়, ‘আলট্রা সাকসেসফুল’ বা অতি সফল উদ্যোক্তারা কাজ করেন মিনিটের হিসেবে।

ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেরা সফল উদ্যোক্তারা দিনে চব্বিশ ঘণ্টার বদলে পুরো ১ হাজার ৪৪০ মিনিট নিয়েই সচেতন থাকেন। এবং তারা বোঝেন জীবনে সময়ের মূল্য সবচেয়ে বেশি। টাকা গেলে টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু সময় গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যায় না।’

কাজেই, সফল উদ্যোক্তা হওয়ার অন্যতম মূলমন্ত্র হলো, প্রতিটি মিনিটের ব্যাপারে সচেতন থেকে কাজ করতে হবে। যদি এক ঘণ্টা কাজ করেন, তবে খেয়াল রাখুন ৬০টি মিনিটই যেন কাজে লাগে। দেখবেন, এক ঘণ্টার কাজ এক ঘণ্টার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বাকি সময়টা আপনি অন্য জরুরি কাজে লাগাতে পারবেন। এতে আপনার কর্মদক্ষতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

দুই. এক সময়ে শুধু একটি কাজেই মনোযোগ দিন

কোনো কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশ করা (ফোকাস) হলো অসাধারণ সফল হওয়ার আরেকটি অন্যতম মূলমন্ত্র। আপনি যখন যেটাই করছেন, সেটাতে পূর্ণ মনোযোগ দিন। তার চেয়েও বড় কথা, দিনের কাজের শুরুটা করুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিয়ে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার জানা থাকার কথা যে, কোন কাজটি করা আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।

বেশিরভাগ অতি সফল উদ্যোক্তা তাদের দিনের কাজ শুরু করার পর দুই ঘণ্টা গভীরভাবে একটি কাজই করেন – যে কাজটি তাদের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে জরুরি। এই সময়ে অপ্রয়োজনে তারা কারও সঙ্গে কথা বলেন না, বা অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দেন না।

তিন. ক্যালেন্ডার ধরে কাজ করুন

কিছু মানুষ তাদের দিনে একদম ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় কাজও কার্যতালিকার (শিডিউল) মধ্যে রাখেন। কেভিন ক্রুজ ২০০ জন অতি সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে জানতে পেরেছেন, এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি। আপনি যদি অগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও কার্যতালিকায় রাখেন, তার কমবেশি ৪১ শতাংশ করতে পারবেন না। এসব না করা কাজ অবচেতন মনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

অতি সফল মানুষরা দিনের সব ছোট ছোট বিষয় কার্যতালিকায় না রেখে, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কাজ করেন। অর্থাৎ, তারা কোন তারিখে কোন কাজটা শেষ করেবন তার বিবরণ লিখে রাখেন। এবং সেই জরুরি কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগ করে দিনের কার্যতালিকায় ঢোকান। এতে তাদের মনোযোগ শুধু জরুরি কাজগুলোতেই থাকে। তাদেরকে অহেতুক মানসিক চাপ নিতে হয় না।

চার. ঢিলেমি বন্ধ করার জন্য ঢিলেমির ফলাফল আগে ভাবুন

সফল উদ্যোক্তা হওয়া বা অন্য যে কোনো বিষয়ে সফল হওয়ার জন্য ঢিলেমি বাদ দেয়াটা একটি জরুরি মূলমন্ত্র। ঢিলেমির কুফল খুবই ভয়াবহ। বহু প্রতিভাবান ও দক্ষ মানুষ শুধু এই ঢিলেমি বা কাজ ফেলে রাখার কারণে জীবনে ব্যর্থ হয়েছেন।

সাধারণ মানুষদের মত, সফল মানুষদেরও ইচ্ছা হয় কাজ ফেলে বিশ্রাম নিতে, মেজাজ ভালো না থাকলে একটু জিরিয়ে নিতে, প্রিয় চলচ্চিত্র বা টিভি সিরিজটা মুক্তির দিনই দেখে ফেলতে ইত্যাদি। কিন্তু তারা এসব ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখেন, কারণ তারা জানেন, কাজ ফেলে রাখলে বা ঢিলেমি করলে ভবিষ্যতে কী হবে।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, তারা কি জাদু জানেন, না কি ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন? এর কোনোটাই নয়। তারা এমন একটি ক্ষমতা কাজে লাগান, যা প্রতিটি মানুষেরই আছে। তা হলো, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে পারা এবং কল্পনা করতে পারা।

পাঁচ. ব্যবসার বাইরেও একটা জীবন রাখুন

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে অবশ্যই ব্যবসা আপনার অন্যতম প্রধান কাজ। কেভিন ক্রুজ এ প্রসঙ্গে বলেন, সেরা সাফল্য পাওয়া উদ্যোক্তারা খুব ভালো করে জানেন যে, জীবনে কোন কোন জিনিস তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যাঁ, তারা তাদের কাজকে অনেক মূল্য দেন। কিন্তু এর বাইরেও জীবনে মূল্যবান কিছু আছে। অসাধারণ সফল উদ্যোক্তারা ব্যবসার পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও মূল্য দেন। একজন মানুষের জীবনের শেষে তার অবদানের পাশাপাশি তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কী এবং পরিবারের কাছে কী – এগুলো আরও বেশি মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায়। এজন্যেই ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস, জেফ বেজোস, অথবা জ্যাক মা এর মত বড় বড় বিলিওনিয়ার তাদের বিপুল অর্থ মানবকল্যাণে দান করে দেন, সেই সাথে নিজেদের সন্তান ও পরিবারকে যথেষ্ঠ সময় দেন।

ছয়. পড়া ও লেখার অভ্যাস

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য পড়ার ও লেখার অভ্যাস থাকাটা একটি অন্যতম মূলমন্ত্র। ওয়ারেন বাফেট এখনও দিনে ৫০০ পৃষ্ঠা পড়েন, ইলন মাস্ক সময় পেলেই বইয়ের মাঝে ডুবে থাকেন, বিল গেটস বছরে ৫০টি বই পড়েন, মার্ক জাকারবার্গ তার ব্যবসা প্রসারণের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও মানুষ নিয়ে পড়াশোনা করেন।

ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিলিওনিয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন একাধিকবার বলেছেন যে, তিনি ভার্জিন গ্রুপকে সফল করতে পারতেন না যদি না তিনি একটি ছোট্ট খাতা নিয়ে সবসময়ে না ঘুরতেন।

কেভিন ক্রুজ লিখেছেন, ‘অতি সফল মানুষরা সবকিছু লিখে রাখার মাধ্যমে তাদের মাথাকে পরিষ্কার রাখেন। জরুরি বিষয় লিখে ফেললে সেগুলো আপাতত মাথায় খোঁচাখুঁচি করবে না। কিন্তু সেগুলো নিয়ে পরে চিন্তা করা যাবে। সর্বকালের সেরা জিনিয়াস লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এটা খুব কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন।

সাত. ই-মেইল ও নোটিফিকেশন কম চেক করুন

সেরা সফল উদ্যোক্তারা সারাদিন ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর নোটিফিকেশন চেক করেন না। বা টুং করে মেইল বা নোটিফিকেশন আসার শব্দ হলেই সেদিকে মনোযোগ দেন না। এর বদলে অন্য সবকিছুর মত এটার জন্যও তাদের নির্দিষ্ট সময় থাকে। হয়তো দিনে দুপুরের খাবারের পর আধা ঘণ্টা মেইল ও নোটিফিকেশন চেক করেন।

আট. সভার পেছনে বেশি সময় নষ্ট করবেন না

কেভিন ক্রুজ আমেরিকান বিলিওনিয়ার মার্ক কিউবান-এর সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় তার কর্মকক্ষমতার সেরা উপায়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে কিউবান বলেছিলেন যে, ফলপ্রসূ হবে না মনে হলে সভার পেছনে বেশি সময় নষ্ট করবেন না।

যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সভার সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করুন। এতে সময় নষ্ট হবে না। একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রতিটি মিনিটকে সত্যিকার কাজে লাগানো অপরিহার্য।

নয়. ‘না’ বলতে শিখুন

সর্বকালের সেরা একজন উদ্যোক্তা ওয়ারেন বাফেট-এর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সাধারণ সফল আর অসাধারণ সফলদের মধ্যে পার্থক্য হলো, অসাধারণ সফলরা প্রায় সবকিছুকেই ‘না’ বলতে’ জানেন।

প্যারেটো প্রিন্সিপাল’ বা ৮০/২০ বিধি অনুযায়ী, ২০ শতাংশ কাজের ওপর মানুষের ৮০ শতাংশ সাফল্য নির্ভর করে। তাই সেই গুরুত্বপূর্ণ ২০ শতাংশ কাজ বের করে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে করতে হবে এবং বাকি ৮০ শতাংশ কাজকে ‘না’ বলতে হবে। অসাধারণ সফল উদ্যোক্তারা কোনো সুযোগ সামনে আসলেই তা লুফে নেন না। তারা জানেন, বেশিরভাগ কাজে হাত দিতে গেলে তাদের মূল কাজটাই করা হবে না। তারা শুধু সেই কাজগুলোই করেন, যেগুলো তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। বাকি সবকিছুকেই তারা না বলেন।

দশ. সবকিছু একা করতে যাবেন না

সবকিছু একা করতে গেলে শেষে কিছুই ভালোভাবে করা যায় না। এজন্যই সফল ব্যবসার জন্য দলগত কাজ এতটা গুরুত্বপূর্ণ। কেভিন লিখেছেন, অসাধারণ সফল উদ্যোক্তারা সব ব্যাপারে ‘আমি কীভাবে কাজটি করতে পারি?’ জিজ্ঞাসা করার বদলে জিজ্ঞাসা করেন ‘কীভাবে কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে হতে পারে?’ অতি কর্মদক্ষ মানুষেরা সবকিছু একা নিয়ন্ত্রণ করতে চান না। একটি পণ্য বা সেবা বাজারে ছাড়ার সময়ে বাজারজাতকরণ (মার্কেটিং), বাজেট করা, উৎপাদন, প্রযুক্তি – সব দায়িত্ব একজনের কাঁধে না নিয়ে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সেরা কাজটি বেছে নিয়ে, অন্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেন। এতে কাজ দ্রুত ও মানসম্পন্ন হয়।

 এগারো. একবারের জিনিস দুইবারে করবেন না

একজন সেরা সফল উদ্যোক্তা একটি কাজ ধরে সেটা শেষ করে আরেকটি কাজ ধরেন। একটি কাজ একটু করে আবার সেটা রেখে দিয়ে অন্য কাজ ধরেন না। সুনিপুণভাবে কাজ করতে হলে একটি কাজ ধরে শেষ করে তবেই আরেকটি কাজে হাত দিতে হবে। কেভিন লিখেছেন, এতে করে মানসিক চাপ কমবে এবং আপনি সব কাজই অনেক হাল্কা মেজাজে সুন্দরভাবে করতে পারবেন।

বারো. ভালো একটি সকালের রুটিন ফলো করুন

কেভিন ২০০ সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মিল (কমন) যে জিনিসটি পেয়েছেন, তা হলো প্রায় সব সফল মানুষের সকালের রুটিন আছে। সফল মানুষের রুটিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মিল ছিল, খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা, তারপর মেডিটেশন বা প্রার্থনা করা, ব্যায়াম করা, অনুপ্রেরণামূলক বই পড়া বা অডিও শোনা, নিজের উদ্দেশ্যে ভালো কিছু লেখা, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর নাস্তা করা এবং পরিচ্ছন্ন হওয়া।

সাফল্য বা সফলতা অর্জনের উপায়

Image Course: everything-pr.com

ব্যবসায় সফল হওয়ার দশটি উপায়

ধনী হওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায় প্রত্যেকটি মানুষকেই। বুকের বাম পাশটায় সেই স্বপ্নকে পুষে রাখে সযত্নে। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে অনেকেই ব্যবসাকে বেছে নেয়।

কিন্তু ব্যবসা করলেই যে আপনি ধনী হয়ে যাবেন ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়। বলে রাখা ভালো যে ব্যবসা যেমন আপনাকে ধনের পাহাড়ে চড়িয়ে দেবে, ঠিক তেমনি করে দিতে পারে সর্বশান্তও। কেননা ব্যবসায় উন্নতি করতে হলে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে হবে। সাফল্যের বিশাল সিঁড়ি পার করতে গেলে হোঁচট খেতে হবে, আসবে নানান বাধা-বিপত্তি। তাই সেসব বাধা কাটিয়ে সাফল্যের করিডরে পৌঁছানোর জন্য রপ্তকরা চাই কিছু কৌশল। যে কৌশল আপনার ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করে সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছে দেবে।

নিম্নে সফল ব্যবসায়ী হওয়ার দশটি উপায় তুলে ধরা হলো:

এক. গোছানো থাকুন

একজন অগোছালো মানুষ কখনই জীবনে উন্নতি সাধন করতে পারে না। তাই একজন ব্যবসায়ী যদি অগোছালো হন, তাহলে তার ব্যবসায় সাফল্য কখনোই আসবে না। কেননা ব্যবসা এমন একটি বিষয় যেখানে ফাঁকিবাজির কোনো স্থান নেই। ফাঁকি দিলে তা আপনাকে ব্যর্থতার রাস্তায় পাঠিয়ে দেবে। অপরদিকে আপনি যদি গোছানো এবং একজন পরিপাটি মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে এই অভ্যাসটি আপনাকে সফলতার বিশাল সিঁড়ির একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া গোছানো থাকলে সময়ের অপচয় কম হয়, আর সেই সময়টুকু কাজে ব্যবহার করলে কাজের উন্নতি সাধন হবে।

দুই. প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ রাখুন

প্রত্যেক সফল ব্যবসায়ীই তার প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষণ করেন। কেননা ব্যবসা করতে হলে বেহিসাবি হলে একদমই চলবে না। তাহলে ব্যবসায় ধ্বস নামতে পারে। ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি জিনিসের হিসেব না মেলাতে পারলেই বিরাট সমস্যা দেখা দেয়। এবং এভাবে চলতে থাকলে লাভের থেকে ক্ষতির মুখই বেশি দেখতে হবে। তাই প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। এতে করে প্রত্যেকটি মালামালের যেমন হিসেব আপনার কাছে থাকবে, ঠিক তেমনি আপনি আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এবং সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা জানতে পারবেন। এটা জানার মাধ্যমে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনাকে কী ধরনের পরিকল্পনা করতে হবে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কী কী বাধা আছে এবং তা রোধ করার জন্যে আপনাকে কী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিন. প্রতিযোগিতাকে চিহ্নিত করুন

প্রতিযোগিতা আপনার মস্তিষ্ককে বিপুল পরিমাণে সক্রিয় করে তোলে। যার ফলে কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ হয় এবং এর সঙ্গে সঙ্গে অধিক পরিমাণে কাজ সম্পাদিত হয়, যেটি নিশ্চয়ই আপনার ব্যবসায় সুফল বয়ে আনতে সক্ষম। প্রতিযোগিতার সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। তাদের কর্মপরিকল্পনা জানার চেষ্টা করতে হবে এবং সে অনুসারে আপনি আপনার কর্মপরিকল্পনা সাজিয়ে নিলে আপনি সাফল্যের সঙ্গে তাদের মোকাবিলা করতে পারবেন।

চার. ঝুঁকি এবং ফলাফল হিসাব করুন

ব্যবসার সফলতার জন্য মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিতে হবে। কেননা ব্যবসা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে প্রতিনিয়ত আপনাকে ঝুঁকি নিতে হয়। প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হতে হয়। এটাই বাস্তবতা। প্রত্যেক ব্যবসায়ীই ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। কিন্তু সফল ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ ফলাফলের বিষয়টি বিবেচনায় নেন। আর সে কারণেই তারা সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠতে পারেন। তাই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে হলে আপনাকেও এই কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তাই আপনার পরিকল্পনার ‘বাজে দিক কী?’ আপনি যদি এই প্রশ্নটি করেন, তবে আপনি আপনার পরিকল্পনার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা জানতে পারবেন এবং সেটা পরিমাপ করে সে অনুসারে ঝুঁকি নিতে পারেন, যেটা আপনাকে চমৎকার ফলাফল এনে দিবে।

পাঁচ. সৃজনশীল হোন

যুগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা, চিন্তা-ভাবনার ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। তাই ব্যবসাও আর সেকেলে নেই। প্রতিনিয়তই বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আসছে নানা ধরনের নতুন নতুন ধারণা (আইডিয়া), আর তৈরি হচ্ছে নানান সৃষ্টিশীলতা। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে ব্যবসায় সফল হতে হলে আপনাকেও সৃজনশীল হতে হবে। তা না হলে হোঁচট খেয়ে আপনাকেও ব্যর্থতার তকমা কপালে লেপতে হবে। তাই আপনার ব্যবসাকে উন্নত করার জন্যে প্রতিনিয়ত নতুন পন্থা অবলম্বন করুন, যাতে করে আপনার এই পন্থা অন্য সবার প্রতিযোগিতার বাহিরে থাকে। সবকিছুই আপনি জানেন না সেটা মেনে নিন এবং নিত্য-নতুন ধারণা (আইডিয়া) বা পরিকল্পনা এবং নতুন পন্থাকে গ্রহণ করার জন্যে প্রস্তুত থাকুন।

ছয়. একনিষ্ঠ থাকুন

একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘রোম একদিনে হয়নি’। এই প্রবাদটি এই ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। আপনি একটি ব্যবসা আরম্ভ করেছেন এর মানে এই নয় যে আপনি রাতারাতি টাকা উপার্জন শুরু করে দিবেন। আপনি কে, আপনার ব্যবসা কেমন, তা জানতে লোকজনের সময় লাগে। তাই আপনি আপনার ব্যবসার স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে একনিষ্ঠ থাকুন এবং বাকিটা ব্যবসার নিজস্ব গতির ওপর ছেড়ে দিন।

সাত. ত্যাগের জন্যে প্রস্তুত থাকুন

একটি ব্যবসা দাঁড় করানো সহজ কথা নয়। কিন্তু একবার আরম্ভ করলে আপনার কাজ শুরু হয়ে গেলো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনাকে এর পেছনে অনেক সময় এবং অর্থ ব্যয় করতে হবে। আপনাকে অনেক ত্যাগ যেমন, পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কম সময় ব্যয় করতে হবে। আর এটা করতে পারলে আপনি আপনার ব্যবসায় অবশ্যই সফল হবেন।

আট. বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা অর্জন

জীবনের সাফল্যের জন্য বহু ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আপনার অভিজ্ঞতার ভা-ার যত বড় হবে, সাফল্যের সম্ভাবনাও তত ভালো হবে। এজন্য আপনাকে চেষ্টা করতে হবে নিত্য-নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও নতুন বিষয় শিখতে হবে।

নয়. উন্নত মানের সেবা প্রদান করুন

উন্নত মানের সেবা যেমন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বয়ে আনবে, ঠিক তেমনি আপনাকে সাফল্যের করিডোরে পৌঁছানোর জন্যে সাহায্য করবে। এটা একটি পরীক্ষিত কৌশল। অনেক সফল ব্যবসায়ী আছেন যারা ভুলে যান যে, গ্রাহককে উন্নত মানের সেবা প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি যদি গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদান করেন, তবে তারা আবারও আপনার কাছে আসবে, যেটা আপনার পণ্যকে ক্রেতাদের মাঝে জনপ্রিয় করবে। কিন্তু আপনি যদি নিম্নমানের সেবা প্রদান করেন, তাহলে গ্রাহকদের আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হবে, যেটা আপনার জন্য বিরাট ক্ষতিস্বরূপ।

দশ. ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন

ব্যবসায় সফলতা দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। ধারাবাহিকভাবে আপনাকে আপনার কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং সে অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে যেতে হবে, যেটা আপনাকে ক্রেতাদের মাঝে বিশ্বস্ত করে তুলবে এবং আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যাবে। অন্য দিকে ধারাবাহিকতা বজায় না রাখলে ক্রেতাসাধারণ আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে আপনার কপালে ব্যর্থতার তিলক লাগিয়ে দেবে। তাই ব্যবসায় সফল হতে হলে ধারাবাহিতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়!

একটি ব্যবসা দাঁড় করানো এবং খুব দ্রুত সাফল্য বয়ে আনা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। ধৈর্য, একনিষ্ঠতা এবং নিয়মানুবর্তিতা সাফল্যের পূর্বশর্ত। সাফল্য একদিনে আসবে না। এর জন্যে আপনাকে অনবরত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

Image Course: phstax.com

ধনী হওয়ার ছয়টি উপায়

প্রত্যেক মানুষই যখন জীবনে অর্থের মূল্য বোঝার বয়সে উপনীত হয়, তখনই অর্থ  পেতে চায় বা ধনী হতে চায়। কিন্তু চাইলেই তো আর ধনী হওয়া যায় না। তবে স্থির মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা, যা ব্যক্তির একটি বাতিক হয়ে ওঠে, তারপর দেখা যায় মানুষ ধনী হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট পন্থায় পরিকল্পনা করে এবং ব্যর্থতাকে পাশে জায়গা না দিয়ে সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে লেগে থাকে, আর এভাবেই মানুষ ধনী হয়।

থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ’ বইয়ের লেখক নেপোলিয়ন হিল মনে করেন, যে পদ্ধতিতে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা আর্থিক মূলে রূপান্তরিত হয় তা নির্দিষ্ট ছয় উপায়ে বা ধাপে গঠিত হয়, যা বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য। ছয়টি উপায় হলো:

এক.

আকাংক্ষা অনুযায়ী আপনার মনকে স্থির করুন ঠিক আপনি কত অর্থ চান। এভাবে বলার দরকার নেই যে, ‘আমি অনেক টাকার মালিক হতে চাই’। অর্থাৎ অর্থ পাওয়ার পরিমাণ নির্দিষ্ট করুন। অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট করার একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে।

দুই.

আপনি যে পরিমাণ অর্থ অর্জনের আকাক্সক্ষা করছেন তার বিপরীতে আপনি কী পরিশ্রম বা মেধা দিতে চান তা নিশ্চিত করুন। এটাই সত্য যে, বিনামূল্যে বা বিনা পরিশ্রমে কিছু পাওয়া যায় না।

 তিন.

একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করুন যেদিন আপনি আপনার আকাক্সিক্ষত অর্থ পেতে চান।

চার.

আপনার আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং আপনি প্রস্তুত থাকুন বা না থাকুন তখন কাজ শুরু করুন এবং সেই পরিকল্পনাকে কর্মে পরিণত করুন।

পাঁচ.

আপনি কী পরিমাণ অর্থ অর্জন করতে চান তা স্পষ্ট করে একটি কাগজে লিখুন। এই অর্থ কবে নাগাদ উপার্জন করতে চান তার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করুন। অর্থ অর্জনের বিপরীতে আপনি কী পরিশ্রম ও মেধা দিতে চান তা লিখে রাখুন এবং যে পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি অর্থ উপার্জন করতে মনস্থির করেছেন তার বর্ণনা দিন।

ছয়.

আপনার লিখিত বিবরণ উচ্চস্বরে পাঠ করুন, প্রতিদিন দুইবার করে – একবার রাতে ঘুমাবার আগে, আরেকবার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর। যখন আপনি এটি পড়বেন, অনুভব করবেন এবং বিশ্বাস করবেন, দেখবেন আপনি সেই অর্থ অর্জনের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছেন।

নেপোলিয়ন হিল মনে করেন, ধনী হওয়ার জন্য উপরোক্ত ছয়টি নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি হয়তো বলতে পারেন, অর্থ পাওয়ার আগেই অর্থ পেয়ে গেছেন। কিন্তু এমনটি ভাবা আপনার জন্য অসম্ভব ব্যাপার। এখানেই আপনার তীব্র আকাক্সক্ষা আপনাকে সহায়তা করতে আসবে। আপনি যদি সত্যিই এরূপ তীক্ষèভাবে আপনার আকাক্সিক্ষত অর্থ চান যে তা আপনার বাতিকে পরিণত হয়েছে, তাহলে আপনি যে অর্থগুলো পাবেন, এটা আপনার নিজেকে বোঝানো কঠিন হবে না। বিষয়টা হলো আপনাকে মন থেকে অর্থটা চাইতে হবে এবং এটা পাওয়ার জন্য এতটাই দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে উঠবেন যে, নিজেকে বোঝাতে পারবেন আপনি অর্থটা পাবেন।

নেপোলিয়ন হিল-এর মতে, প্রকৃতপক্ষে যারা ‘অর্থ সচেতন’ থাকেন, তারাই ধনী হয়ে ওঠেন। ‘অর্থ সচেতনতার’ মানে হলো অর্থের প্রতি আকাক্সক্ষা কোনো একজনের মনের মধ্যে এতটাই দৃঢ়ভাবে গ্রোথিত হয়ে যায় যে, তিনি দেখতে পান যে তিনি অর্থগুলো পেয়ে গেছেন।

Image Course: vaalweekblad.com

টাকা সঞ্চয়ের পাঁচটি উপায়

অর্থ জমানোর ইচ্ছা সবারই থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই অর্থ জমাতে পারে না। অর্থ জমাতে গেলে খরচ করার সময় কিছুটা সতর্ক হতে হয়। আবার নানা কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে।

নিম্নে টাকা সঞ্চয়ের পাঁচটি উপায় তুলে ধরা হলো:

এক. সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করুন

দৈনন্দিন আপনার খরচ কত হয় তা একটু চিন্তা করুন। সেখান থেকে আপনি সামান্য কিছু খরচ কমিয়ে জমানো শুরু করলে এক বছর পরে আপনার জমানো টাকা কত হবে ভাবুন। সেটা পাঁচ বছর পর কত হতে পারে? সেজন্য ছোট্ট একটি পরিকল্পনা করুন। এছাড়া আপনার বড় কোনো খরচ থাকলে সেটা কীভাবে সামলাবেন ঠিক করে ফেলুন। আর বর্তমান আপনার যা আয় সেটা সামান্য হলেও কীভাবে বাড়ানো যায় সেই পরিকল্পনা করে এগোতে শুরু করুন।

দুই. ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ান

আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই খরচ করতে হবে এমন নয়। খরচ করার আগে চিন্তা করুন আপনার জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পর অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ কত ছিল। সেটা পরবর্তী মাসে বেড়েছে কি না। প্রতি মাসে জরুরি প্রয়োজন মিটিয়ে সামান্য হলেও অ্যাকাউন্টে ব্যালান্স বাড়াতে থাকুন।

তিন. ক্রেডিট কার্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

ক্রেডিট কার্ড আপনাকে সব সময় ঋণী করে রাখে। তাই এই কার্ড অযথা ব্যবহার করবেন না। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এড়িয়ে চলুন। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় আপনাকে বেশিরভাগ সময় সুদ দিতে হবে। যা আপনার পকেট থেকে অহেতুক টাকা বের করে নেয়ার মতো।

চার. কেনাটাকার আগে ভাবুন

আপনার কোনো কিছু পছন্দ হয়েছে বলে সেটি কিন্তু মন চাইতে পারে। কিন্তু যেকোনো পছন্দের জিনিস কেনার আগে ভাবুন; এটি না কিনলে আপনার কোনো সমস্যা হবে কি না বা এটা যে কাজে ব্যবহার করবেন সেই কাজ আপনি অন্য কোনো উপায় সারতে পারেন কি না। যদি না কিনে পারা যায়, তাহলে অহেতুক কেন পয়সা খরচ করবেন? পৃথিবীতে পছন্দের শেষ নেই। তাই পছন্দ হলেই যদি কিনতে থাকেন, তাহলে আপনার কেনা কখনোই শেষ হবে না।

পাঁচ. ঋণ শোধ করুন

যদি আপনি ঋণী থাকেন, তাহলে বছরের প্রথম থেকেই শোধ করা শুরু করুন। ঋণ মানুষের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে এবং হৃদয়কে ছোট করে দেয়। আপনি ঋণমুক্ত থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন। উপার্জন বাড়ানোর জন্য ব্যক্তিত্ব অন্যতম বিষয়।

ছয়. বিমা বা ডিপোজিট স্ক্রিম শুরু করুন

বছরের শুরুতে একটি বিমা বা ডিপোজিট স্কিম শুরু করুন। সেটা আপনার সাধ্যমতো করুন। পরিমাণ যত ছোটই হোক এটি করলে আপনার সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠবে। পরে এটিকে আপনি বাড়িয়ে ফেলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হবে।

Image Course: emp-gh.com

অসাধারণ সফলতা পাওয়ার নয়টি উপায়

সফল হওয়া কঠিন কাজ নয়। তবে অসাধারণ সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। আপনি সফল হয়ে উঠবেন কি না, তা কেউ বলে দিতে পারে না। তবে আপনার মাঝে কিছু বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে। এগুলোকে অসাধারণ সাফল্যের লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন।

নিম্নে পেশাদারদের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইন-এর জনপ্রিয় পরামর্শদাতা জেফ হ্যাডেন-এর মতে অসাধারণ সফলতা পাওয়ার দশটি উপায় (লক্ষণ) তুলে ধরা হলো:

এক.

অন্যের সফলতা আপনাকে আনন্দ দেবে। কর্মক্ষেত্রে কোনো দল তখনই সফল হয় যখন তার প্রত্যেক সদস্য এর পেছনে কাজ করতে থাকেন। বড় ধরনের সফলতার পেছনে প্রত্যেকের অবদান থাকে। আর এই সফলতায় শুধু নিজে নয়, অন্যরাও আনন্দিত হন।

দুই.

যারা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে নিরলস পরিশ্রম করে যান, তারা নিঃসন্দেহে সফল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। খুব সহজেই তারা সাহসের সঙ্গে নতুন কাজে হাত দেন। বিশেষজ্ঞ ড. রবার্ট ক্লনিনগার জানান, নতুন কিছু শেখার প্রক্রিয়া আপনাকে স্বাস্থ্যবান ও সুখী করে তোলে। ভবিষ্যৎ দেখার আকাক্সক্ষা ভবিষ্যতের অসামান্য সফল মানুষদের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য।

তিন.

পেশাগত জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনকে অনেকেই পৃথক রাখতে চান। কিন্তু চরমভাবে সফল মানুষরা এ দুইয়ের মধ্যে কোনো দেয়াল রাখেন না। ব্যক্তিগত বা পেশাগত কাজ সব মিলেমিশে একাকার তাদের জীবনে।

চার.

তারা দারুণ সহানুভূতিশীল। পরিচিত বা অপরিচিত সবার ক্ষেত্রে সহানুভূতি প্রদর্শন করেন তারা। আর অসাধারণ সফলতার দিকে যারা এগিয়ে যান তাদের সহানুভূতি মেকি নয়।

পাঁচ.

অন্যের ভুল ধরার কাজটি তারা হেনস্থা করার জন্যে করেন না। তারা এটি করেন সত্য জানার প্রয়োজনে। তাদের কর্ম ও আদর্শ গভীর চিন্তাধারা থেকে তৈরি হয়।

ছয়.

গতানুগতিক কর্মদিবসে বিশ্বাসী নন তারা। আবার সারাদিন ধরেও কাজ করেন না তারা। তারা যাই করেন, বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা এবং মনের মতো করে সম্পন্ন করেন।

সাত.

কাজের বিনিময়ে যে অর্থ উপার্জন করেন তা পুরস্কার হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীলতা বলে মনে করেন। ব্যবসায় সফল হলে একে কর্মদক্ষতার পুরস্কার বলে ভাবেন না তারা। যা করেন তা সহকর্মী, সমাজ এবং দেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা থেকে করেন তারা।

আট.

নিজেকে বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে মনে করেন না তারা। বরং কাজে সফল হতে বিশেষ পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

নয়.

সফলতার উত্থান-পতন ঘটবে। সফলতার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সম্মান। আর এটাই তাদের উদ্দীপনার মূল উপাদান।



আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে পড়তে পারেন সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত নেসার আমিন এর “সাফল্য অর্জনের উপায়: জীবনের ৮৫টি ক্ষেত্রে দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি এবং সফল হওয়ার উপায়” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

Featured Image: deceusteracademy.com

আপনার মন্তব্য লিখুন