Skip links

জিন জাতির অস্তিত্ব

গ্রন্থরাজ্য থেকে প্রকাশিত এম. জে. বাবুর হরর থ্রিলার উপন্যাস "জিন" থেকে সংকলিত

পড়তে সময় লাগবে: 13 মিনিট

আসলান খেতে এসেছে ডাইনিংয়ে। কী করে পরিবারটির সাথে জুড়ে গেল তা আসলান বুঝতে পারছে না। গত তিনদিনে যা দেখছে তা যদি নিজের চোখে না দেখতো তাহলে কখনো বিশ্বাস করতো না সে। তার সামনে একটি লোক বসে আছে, আসার পর থেকেই দেখছে সবার দৃষ্টি লোকটির দিকে।

লোকটির নাম আসলান জানে না। সে লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটি মাথা নিচু করে বসে আছে। তারিনকে এখনো দেখতে যায়নি আসলান। ভয় করছে তার, ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক, এত কিছু দেখার পর ভয় না পেয়ে কোন গতি থাকে না। সে মানুষ, রক্ত মাংসের মানুষ, আর ভয় পাওয়া মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। সে এখনো নিজের আদিম প্রবৃত্তি সংবরণ করার মতো শক্তিশালী হয়নি।

“তোমার নাম কী?” লোকটি এবার আসলানের দিকে তাকিয়ে বললো।

আসলান থতমত খেয়ে গেল এমন হঠাৎ প্রশ্নে। এত মানুষের মধ্যে আসলানকে গুরুত্ব দেওয়ার কোন মানে হয় না। সে আস্তে জবাব দিলো, “আসলান হোসেন।”

“কী করো?”

“লেখাপড়া।”

“কোথায়?”

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।”

লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। মাথা নিচু করে কী যেন ভাবলো। আবার মাথা তুলে আসলানকে প্রশ্ন করলো, “কোন বিষয়ে?”

“পরিসংখ্যান।” আসলান চট করে জবাব দিলো।

লোকটি এবার মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো, “বাহ! তাহলে যা ঘটে গিয়েছে তা বিশ্বাস করতে নিশ্চয়ই কষ্ট হচ্ছে?”

আসলান এবার কোন জবাব দিলো না। চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলো। লোকটি যা বলেছে তা সত্যি। আসলানের চোখের সামনে যা ঘটে গিয়েছে তা আসলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। বিশ্বাস করতে চায় না আসলান, অলীক ভেবে উড়িয়ে দিতে চায়, কিন্তু যখন ঘটনার সম্মুখীন হয় তখন আবার বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। লোকটি প্রশ্ন করা থেকে থেমে থাকলো না।

আবার প্রশ্ন করলো, “তোমার হল কোনটি?”

“শহিদুল্লাহ হল।”

“প্রভোস্ট জহির না?”

লোকটি কী করে বুঝলো প্রভোস্ট কে? লোকটি কি ভার্সিটির কেউ? নাকি আগে আসলান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এসেছে? লোকটির উদ্দেশ্য কী? সে লোকটির দিকে কিছুক্ষণ থাকিয়ে থেকে চোখা গলায় প্রশ্ন করলো, “আপনি কে?”

“আমার নাম জাফর। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স করেছি, যদিও আমি ডাক্তার, পাশাপাশি ভূত তাড়িয়ে বেড়াই।” এই বলে লোকটি হা হা করে হাসতে লাগলো।

আসলানের বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। এমন একজন মানুষ এমন কাজ কী করে করতে পারে। জিন-ভূত যদি থাকে তাহলে তা তাড়াতে কখনো একজন শিক্ষক আসতে দেখেনি বা শুনেনি আসলান, এসব কাজ হুজুর, পীরদের, একজন শিক্ষকের এ কাজ হয় কী করে তা ও আবার ডাক্তার?

“আপার কী হয়েছে?” আসলান প্রশ্ন করলো।

জাফর সমস্ত কিছু শুনে নিয়েছে সাজেদের থেকে, রফিক থেকেও সমস্ত ঘটনা জেনে নিয়েছে, শুধু বাকি এই ছেলেটি আর তারিন। নাসির সাহেব  তারিনকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে, আজান দিয়ে আপাতত বাড়িটাকে নিরাপদ রাখতে পেরেছে এটাই ধারণা জাফরের। এই ছেলেটির মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তার চোখ স্থির নয়, দৌড়াদৌড়ি করছে। ছেলেটির ঘুম হয়নি, মাথায় চিন্তা ঘোরাঘুরি করছে, ছেলেটি চিন্তিত আর ভীষণ কৌতূহলী।

জাফর ঠান্ডা গলায় বললো, “তারিন বোধহয় জিন দ্বারা পজেসড।”

জাফর ভেবেছিলো ছেলেটি চমকে উঠবে, কিন্তু কিছুই হলো না, মনে হচ্ছে এসবের সাথে পূর্বপরিচিত।

আসলান ভাবলেশহীনভাবে প্রশ্ন করলো, “জিন কি আদৌ আছে?”

“আচ্ছা ডার্ক এনার্জি দেখেছো কখনো? দেখনি। কিন্তু বিশ্বাস তো করো। মহাকাশের প্রত্যেকটি বস্তুকে সরিয়ে নিচ্ছে ডার্ক এনার্জি। একটি থেকে আরেকটি। মহাকাশ সম্প্রসারিত হচ্ছে এই ডার্ক এনার্জির কারণে। এই যে ডার্ক একটি এনটিটি আছে তা সাইন্স বিশ্বাস করে। প্রত্যেক বস্তুর বিপরীত বস্তু আছে। যেমন ম্যাটার-এন্টি ম্যাটার। আমরা বিশ্বাস করি এলিয়েন আছে। সেজন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নষ্ট করি। এমনকি আমরা প্যারালাল জগতকেও বিশ্বাস করি। এটা যদি বিশ্বাস করো তাহলে জিন বিশ্বাস করো না কেন? বিশ্বাস করো বা না করো তা তোমার উপর নির্ভর করে।” জাফর এক নিঃশ্বাসে জবাব দিলো।

Image Course: lifeinsaudiarabia.net

অনেকবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে জাফর। একেকজনকে একেকভাবে বুঝাতে হয়েছে তাকে। জাফরের জবাব শুনে আসলানের মনে হলো জাফর প্রস্তুত ছিলো এই প্রশ্নের জন্য। অকপটে সব বলে গেল। জাফরও ছেড়ে দিলো না, ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে আসলানের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো, “এখন আমাকে বলো আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালাকে বিশ্বাস করো?”

ইশ্বর আছেন কি না তা নিয়ে বরাবরই সংশয় ছিলো আসলানের, এখন আর তা নেই। আসলানের মন থেকে একটি আওয়াজ আসে আজকাল। সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন, উপরওয়ালা একজন আছেন।

তাই আসলান বিনা সংকোচে জবাব দিলো, “হ্যাঁ করি।”

আসলানের জবাব শুনে মুচকি হেসে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে বললো, “যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা থাকেন, তাহলে জিন আছে, শয়তান আছে, মালাইকাও আছেন। সৃষ্টিকর্তা যদি থাকেন, তাহলে তাঁর সৃষ্টিও আছে। এই সৃষ্টির মধ্যে একটি হলো জিন জাতি।”

কয়েক সেকেন্ড থেমে জাফর আবার বললো, “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সূরা যারিয়াতের ৫৫ নাম্বার আয়াতে বলেছেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য।’

সৃষ্টিকর্তাকে যেহেতু বিশ্বাস করো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার বিধান পবিত্র কুরআনকেও বিশ্বাস করো। তাহলে তোমাকে আমি পবিত্র কুরআন থেকে বুঝাচ্ছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সূরা জিন নামে একটি আস্ত সূরা নাযিল করেছেন।”

জাফর কয়েক সেকেন্ড থেমে বিরতি নিয়ে আবার বললো, “সূরা আহক্বাফের ২৯ নাম্বার আয়াতে  বলেছেন, ‘স্মরণ করুন, যখন আমি আপনার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম।’, সূরা আনআমের ১৩০ নং আয়াতে  বলেছেন, ‘হে জিন ও মানব জাতি! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য হতেই রসূল আলাইহিমুস সালাম আসেননি, যাঁরা তোমাদের কাছে আমার আয়াত সমূহ বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে কিয়ামত সম্পর্কে সতর্ক করতেন?’

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সূরা আরাফের ২৬-২৭ নাম্বার আয়াতে  বলেছেন, ‘আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শুনে না, তারা জন্তু জানোয়ারের মতো, বরং তার চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারাই হলো উদাসীন।”

জাহান্নাম শব্দটা বলতে গিয়ে গলা ধরে গেল জাফরের। মনে হলো তার গলার স্বরকে কেউ পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে তাই সেখান থেকে কেমন একটা আবেগতারিত শব্দ বের হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে মাথা নিচু করে আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালাকে ডাকতে লাগলো। সবাই হাঁ করে তাকিয়ে আছে জাফরের দিকে।

জাফর মাথা তুলে বড় করে একটি নিঃশ্বাস নিয়ে বললো, “শুধু তাই নয়, পবিত্র কুরআনে এরকম অনেক আয়াত আছে জিন জাতি সম্পর্কে।  সূরা হিজরের ২৬-২৭ নাম্বার আয়াতে  আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেছেন, ‘আমি মানুষকে কাদা থেকে তৈরি শুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। এবং তাঁর পূর্বে জিনকে শিখাযুক্ত আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছি।”

জাফর থামতেই আসলান আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো, “আচ্ছা জিন যদি আগুনের তৈরি হয় তাহলে তারা জাহান্নামের আগুনে পুড়বে কী করে?”

জাফর জানতো আসলান এই প্রশ্ন করবে। অনেক মুসলমান ভাবে জিনরা জাহান্নামে পুড়বে না, তারা সর্বশক্তিমান, সেজন্য তারা নানা উপায়ে জিনদের অনুগ্রহ তালাশ করে শিরক করে থাকে। বিশেষ করে যারা কালো জাদু করে তারা জিনকে ঈশ্বররূপে গ্রহণ করে। সমাজে প্রপাগান্ডা ছড়াতেও দেরি করে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার সাধারণ একটি সৃষ্টিকে তারা অতিরঞ্জিত করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার সমকক্ষ করে তোলে।

জাফর একটু সামনে ঝুঁকে বললো, “তোমার কথা ঠিক। ভুল নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সূরা জিনের ৬ নাম্বার আয়াতে বলেছেন, ‘কতিপয় মানুষ জিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতো ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিতো।”

জাফর কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিয়ে আসলানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললো, “আয়াতটি শুনে নিশ্চয়ই ভাবছো আয়াতের সাথে তোমার প্রশ্নের কী সম্পর্ক? শয়তান শক্তি লাভ করে আমাদের থেকেই। শয়তান কিন্তু জিনের জাত। ইবলিস একজন জিন ছিলো। যখন আমরা পাপ করি শয়তান আমাদের গ্রাস করা শুরু করে। আস্তে আস্তে শয়তান আমাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। এটিই শয়তানের জয়। একজন মানুষকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা থেকে বিচ্ছিন্ন করে শয়তানের কাজে নিয়োজিত করতে পারাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। আমরা মনে করি জিনরা সুপ্রিম। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তাদের গায়েব বা অদৃশ্য হওয়ার শক্তি দিয়েছেন আর তারা আগুনের তৈরি।”

আসলান জবাবে কিছু বললো না, শুধু মাথা নাড়ালো। জাফর আসলানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি ফুটিয়ে বললো, “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সূরা হিজরের ২৬-২৭ নাম্বার আয়াতে বলেছেন ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি ছাঁচে ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হতে। এর পূর্বে সৃষ্টি করেছি জিনকে, প্রখর শিখাযুক্ত অগ্নি থেকে।’

তাছাড়া আর রহমানের ১৫ নাম্বার আয়াতে বলেছেন, ‘তিনি জিনকে সৃষ্টি করেছেন বিশুদ্ধ (ধোঁয়াহীন) অগ্নিশিখা হতে।’, এ ছিলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার কথা। পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত আছে এ সম্পর্কে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার সাথে ইবলিসের কথোপকথন উল্লেখিত রয়েছে সূরা আরাফের ১২ নাম্বার আয়াতে, ‘(ইবলিস বললো,) আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন দিয়ে আর হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি দিয়ে।”

কথা শেষ করে আড়চোখে তাকিয়ে থাকলো আসলানের দিকে। আসলান ভাবলেশহীনভাবে জাফরের কথা শুনছে, এরকম নীরস প্রতিক্রিয়া পেয়ে দমে গেল না জাফর, বরং দ্বিগুণ উৎসাহে বলতে থাকলো, “ইবলিসের শত্রুতা শুরু হয় জান্নাত হতে যেদিন ইবলিস আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার হুকুম না মেনে অভিশপ্ত হলো। সেদিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার সামনে ইবলিস চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বললো, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি বিপথগামী হয়েছি, তাই আমি মানুষের নিকট পাপকর্মকে অবশ্যই শোভনীয় করে তুলবো এবং আপনার একনিষ্ঠ বান্দাগণ ব্যতীত তাদের সবাইকে আমি অবশ্যই বিপথগামী করে ছাড়বো।’ জান্নাতে মানুষের আদি মাতা-পিতাকেও শয়তান প্ররোচনা দিয়েছিল। তাছাড়া শয়তানের খপ্পরে পড়ে পৃথিবীতে পথভ্রষ্ট হয় কাবিল, যার হাতে শহীদ হন হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম।”

আর্টিকেলটি পড়তে কি আপনার ভালো লাগছে? তাহলে পড়তে পারেন গ্রন্থরাজ্য থেকে প্রকাশিত এম. জে. বাবুর  হরর থ্রিলার উপন্যাস “জিন” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

কয়েক সেকেন্ড থেমে জাফর বললো, “শয়তানের ক্ষতির পরম্পরা তারপর থেকে শুরু হয়ে আজ অবধি মাথা উঁচু করে টিকে আছে। জিন জাতিকে বশ করতে শয়তানের বেশি বেগ পেতে হয়নি। সেই উপকথা আজও পারস্যের অলিতে-গলিতে বলা হয়।

সেখানে বলা হয়, হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম শহীদ হওয়ার পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা প্রথম নবীকে শিথ বা শিষ আলাইহিস সালামকে দেন। ‘শিথ’ অর্থ উপহার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা শিষ আলাইহিস সালামকে উপহারস্বরূপ দিয়েছিলেন। উনার সুযোগ্য সন্তান ছিলেন ইনচ আলাইহিস সালাম। পাহাড়ের উপর বাস ছিল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার প্রিয় বান্দাদের। সমতল ভূমিতে তখন কাবিলের বংশধরগণ থাকতো। তারা পাপে নিমজ্জিত ছিলো। শয়তান যখন সরাসরি ইনচ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে কাবু করতে পারলো না তখন জিন লেলিয়ে দিলো। জিনদের স্মরণ করিয়ে দিলো হাজার বছর আগের কথা, যখন এই পৃথিবী ছিল তাদের দখলে।

প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে জিনরা পাহাড়ের অধিবাসীদের উপর হানা দিতে শুরু করলো। শিথ আলাইহিস সালামের তৃতীয় অথবা চতুর্থ প্রজন্মে জন্ম নেন এক তাকওয়াবান বীরপুরুষ মুয়াজ্জাল। তিনি শক্ত হাতে জিনদেরকে দমন করেন, তাড়িয়ে দেন দ্বীপ আর সমুদ্রের দিকে।”(১)

জাফর কথা শেষ করে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিলো। সবাই মুখ হাঁ করে শুনলো। আসলান নিজের অজান্তেই ডান হাতের বুড়ো আঙুল নিয়ে নখ কামড়াতে লাগলো, যখন জাফর কথা শেষ করলো আসলান নিজের অজান্তেই আঙুলে কামড় বসিয়ে দিলো, ব্যথায় মুখ নীল হয়ে গেল তার।

হালকা করে থুতু ফেলে বললো, “ইদ্রিস আলাইহিস সালাম কি ইনক? আর এই যুদ্ধই কি নেফিলিম যুদ্ধ?”

জাফর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো, “আমি ঠিক নিশ্চিত নই। তবে হযরত ইদ্রিস আলাইহিস সালামকে অনেকে ইনচ আলাইহিস সালাম মনে করেন। সে সম্পর্কে কোন দলীল আমার কাছে নেই।”

“আপনি কি সব কথায় এরকম দলিল দিয়ে বলেন? মানে রেফারেন্স দিয়ে?” আসলান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো।

জাফর হাসি দিয়ে বললো, “এটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আর তাঁর সৃষ্টির কাহিনি। এখানে বানিয়ে বলার আমার ইচ্ছে নেই, তাছাড়া তোমার মত শিক্ষিত মানুষের সাথে এরকম রেফারেন্স দিয়ে কথা না বললে কি তুমি বিশ্বাস করতে?”

আসলান কিছু বললো না, ভাবতে লাগলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার আদেশ মাত্র একবার অমান্য করে ইবলিস অভিশপ্ত হয়ে গেল, আর মানুষ দৈনন্দিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার কত আদেশ অমান্য করে!

“এখান থেকে সমস্ত কিছু শুরু। ইবলিসের কথার মধ্যে অহংকার ফুটে উঠেছে। আর এই অহংকারই ইবলিসের পতনের মূল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই আগুনের তৈরি জিন কীভাবে আগুনে পুড়বে?” জাফর নিজ থেকেই বললো।

কয়েক সেকেন্ড থেমে আবার শুরু করলো, “দেখো, আমরা মানুষ কিন্তু মাটি দিয়ে তৈরি। এমন মাটি যেটা শুকিয়ে ঠনঠনে হয়ে যায়। এটেল মাটির মত। জিনকে তৈরি করা হয় ধুম্রহীন আগুন দিয়ে। শীতল আগুন। মানে তাঁর দেহ আগুনের তৈরি। শীতল আগুন, যে আগুনের জ্বলন শক্তি নেই। যদি জ্বলন শক্তি থাকতো তাহলে বাতাসে আগুন লেগে যেতো।

আমরা মাটির তৈরি, তারমানে এই নয় যে আমাদের শরীরে চাষাবাদ করা যায়, গাছ লাগানো যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা জিনের আদি পিতাকে তৈরি করেছেন আগুন দিয়ে, আর আমাদের পিতাকে মাটি দিয়ে। সুতরাং এমনও না যে জিনরা যা কিছুর সংস্পর্শে আসে তা জ্বলে যায়। তারা আসলে জ্বলন্ত আগুন নয়। মোটকথা আমরা যেমন মাটির তৈরি হলেও মাটি নই, তেমনিভাবে জিনরা আগুনের তৈরি হলেও তারা আগুন নয়।”

কয়েক সেকেন্ড থেমে নিজের ঘড়ি দেখে বললো, “এই সম্পর্কে আবুল ওয়াফা বিন আকীল বলেছেন, এক ব্যক্তি জিনদের সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করলো, ‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা জিনদেরকে আগুন থেকে তৈরি করেছেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালাই বলেছেন আগুনের উল্কাপিণ্ড তাদের ক্ষতি করে, জ্বালিয়ে দেয়। তাহলে আগুন কী করে আগুনকে জ্বালায়?’

ওই ব্যক্তির প্রশ্নে আবুল ওয়াফা বিন আকীল জবাব দেন, ‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা জিন জাতিকে আগুনের সাথে সে অর্থে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যে অর্থে মানুষকে সম্পৃক্ত করেছেন মাটি, কাদা ও শুকনো ঠনঠনে মাটির সাথে। অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টির মূল উপাদান কাদামাটি হলেও মানুষ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাদামাটি নয়। তেমনই জিনরাও আগুনের উপাদানে সৃষ্ট কিন্তু জিন মানেই আগুন নয়।”

জাফর থেমে লম্বা একটা দম নিয়ে কিছুক্ষণ চোখ বুজে থাকলো। কয়েক সেকেন্ড পর মাথা তুলে আসলানের দিকে তাকিয়ে বললো, “এ তো ইসলামের একজন জ্ঞানী মনিষীর কথা ছিলো। চলো এবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলি। মুসনাদে আহমাদের ৫: ১০০, ১০৫ নাম্বার হাদীসে তিনি বলেছেন, ‘শয়তান নামাযের মধ্যে আমার মুকাবিলা করেছে আর আমি তার গলা টিপে দিয়েছি এবং তার থুতুর শীতলতা নিজের হাতে অনুভবও করেছি।’ সুতরাং শয়তান বা জিন এমন আগুন থেকে তৈরি হয়েছে যা ধোঁয়াহীন। ঠান্ডা-শীতল আগুন। এই আগুন আগুনে পুড়ে।”

সবাই থ হয়ে তাকিয়ে আছে জাফরের দিকে, বিশেষ করে শহিদ। সে ভাবছিলো, এই মানুষটার চরম জ্ঞান আছে ধর্ম সম্পর্কে। আসলান সমস্ত কথা হাঁ করে গিলছিলো, যেমন গিলছিলো তেমনই হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে শুরু করলো। তার সেগুলোর উত্তর জানা জরুরী, না জানতে পারলে শান্তি পাবে না।

আসলান এবার সংকোচ কাটিয়ে বলেই ফেললো, “জিন আসলে কারা? জিন আর শয়তান কি এক? তারা কেন আমাদের ক্ষতি করবে?”

আসলানের প্রশ্নে শুনে কপাল কুঞ্চিত করে ফেললো জাফর। তার পানি দরকার। এদিকে তারিনও আসছে না। তারিন ঘুম থেকে উঠলে সে কাজ শুরু করবে। জাফর আসলানকে বললো, “যাও পানি নিয়ে এসো।”

আসলান খানিকটা বিরক্ত হয়ে পানি আনতে চলে গেল।

আসলান চলে যেতেই শহিদ বললো, “জাদু টোনা জানেন?”

জাফর বিরক্তির সুরে বললো, “না।”

শহিদ কপাল কুঞ্চিত করে বসে থাকলো, আর কিছু বললো না। আসলান পানি নিয়ে আসলো। জাফর ঢক ঢক করে পানি খেলো, গ্লাস রেখে আসলানকে ইশারা দিলো বসতে। আসলান বসে পড়লো।

Image Course: millichronicle.com

জাফর নিজের দুহাত মুঠ করে সামনে এনে বললো, “জিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সৃষ্টি করেছেন। আমাদের সাথেই থাকে, বলতে গেলে আমাদের প্যারালাল। তাদের আমরা দেখি না। জিন আরবি শব্দ, যা এসেছে ‘জানানা’ থেকে। যার অর্থ লুকায়িত। যেমন আরবিতে ভ্রূণকে ‘জানিন’ আর হৃদপিণ্ডকে বলা হয় ‘জানান’। কারণ দুটিই লুকায়িত অবস্থায় থাকে। সেজন্য এই অদৃশ্য জাতিকে জিন বলা হয়।

জিনদের মধ্যে যারা খারাপ তাদের শয়তান বলা হয়। বহুবচন শায়াত্বিন। জিন আর মালাইকা এক নয়। তাছাড়া ইবলিসও কোন ফলেন এঞ্জেল নয়। সে জিন ছিলো, পরবর্তীতে সে ইবলিস নাম পেয়েছে। সূরা কাহাফের ৫০ নাম্বার আয়াতে  আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই করলো; সে ছিলো জিনদের একজন।’

এই আয়াত থেকেই বুঝতে পারি ইবলিস আসলে মালাইকা নয়। সে ছিলো জিন। তাছাড়া সূরা তাহরীমের ছয় নাম্বার আয়াতে বলেছেন, ‘মালাইকারা কঠোর ও নির্মম, যাঁরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার আদেশ অমান্য করেন না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালাযা নির্দেশ দেন তা-ই তাঁরা পালন করেন।’

এখান থেকেই বুঝতে পারছো আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা মালাইকাদের নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা যা আদেশ করেন তাঁরা তা-ই করেন। যদি আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা থাকে তাহলে অন্তিম দিনে মালাকুল মউত নিজের জান কবজ করবেন না, কিন্তু ইবলিস আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার আদেশ অমান্য করেছে। আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করেনি। সুতরাং সে জিন।”

জাফর কথা শেষ করে আসলানের দিকে তাকালো। তার চোখে একটা দীপ্তি দেখতে পেল জাফর। জানার জন্য দীপ্তি। এই বিষয়টা আজকাল অনেক ছেলেপেলে এড়িয়ে যায়। যখনই ধর্ম নিয়ে কথা বলা হয় তাদের একটা চুলকানি সৃষ্টি হয়। অবশ্য এর জন্য ইসলামোফোব সমাজ যতটা দায়ী তার থেকে বেশি দায়ী ধর্ম ব্যবসায়ীরা; যারা বরাবর ইসলামকে ভুল রূপে উপস্থাপন করে আসছে।

জাফর ঢোক গিলে আবার শুরু করলো, “এখন আসি জিনদের উৎপত্তি নিয়ে। জিনরা মানুষের আগে পৃথিবীতে এসেছে। পূর্বের আয়াতে মাজিদ থেকেই বুঝতে পারছো। জিনদের আদি পিতা ইবলিস কি না সে সম্পর্কে কোন ধারণা আমি কোথাও পাইনি। তবে জাওহারি তাঁর বই আস সিহাহতে বলেন, ‘আল জ্বান হলো জিনদের আদি পিতা।’

সূরা বাক্বারার ৩০ নাম্বার আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীর ইবনে কাসীরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, ‘হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে জিনরা পৃথিবীতে এসে বসতি স্থাপন করে।’

সুতরাং জিনরা মানুষদের আগে থেকেই দুনিয়ায় আসে। ইবনে দুরাইদের ইমাম উশ শু’আরা ওয়াল লুগাত বই থেকে জানা যায় যে, হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘জিন জাতি সৃষ্টি করা হয়েছে হযরত আদম আলাইহিস সালামের দুই হাজার বছর আগে।’ হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতি রাহিমাহুল্লাহ এর বইয়ে পাওয়া যায় যে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘জিনদের আদি পিতার নাম হলো সামূম।’ সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানো? পৃথিবীতে একটি এঞ্জেলিক ওয়ার হয়েছিলো। জন মিল্টনের প্যারাডাইস সিরিজের মত।”

আসলান চোখ বড় করে বললো, “কী!”

জাফর হেসে ছোট করে জবাব দিলো, “হ্যাঁ।”

“শুনতে চাই।” আসলান মিনতির সুরে বললো।

জাফর আসলানের দিকে তাকিয়ে হেসে আবার শুরু করলো, “তাফসীরে উসমানীতে জুওয়াইবির ও হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের সনদ সহকারে বলেছেন যে, ‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা জিন জাতিকে সৃষ্টি করার পর তাদের পৃথিবীতে বাস করার নির্দেশ দিলেন। তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার অনুগত হয়ে চলতে লাগলো। অবশেষে দীর্ঘ কাল কেটে যাবার পর তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার অবাধ্যতা শুরু করে দিলো এবং খুন-খারাবী করতে লাগলো।

তাদের এক বাদশাহ ছিলো, যার নাম ছিলো ইউসুফ। তারা তাকেও মেরে ফেললো। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তাদের উপর দ্বিতীয় আসমানের একদল মালাইকা পাঠালেন। তাঁদের মধ্যে ইবলিসও ছিলো। ইবলিস ছিলো চার হাজার মালাইকাদের সর্দার। সে আসমান থেকে নেমে যমীনের সকল জিন সন্তানকে খতম করলো এবং বাকীদের প্রহার করে সমুদ্রের দ্বীপগুলোর দিকে তাড়িয়ে দিলো।’

এই উদ্ধৃতি হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতি রাহিমাহুল্লাহ এর বইয়ে আছে। অধিকাংশ ইমামদের মতে এটি অনেক দুর্বল বর্ণনা। সত্যও হতে পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে। এ সম্পর্কে অনেক মত আছে।”

জাফর থেমে আসলানকে কথাগুলি হজম করার সুযোগ দিলো। কিছুক্ষণ পর একটা ঢোক গিলে বললো, “যেমন হযরত মুহাম্মাদ বিন ইসহাক রাহিমাহুল্লাহ, হযরত হাবীব বিন আবী সাবিত রাহিমাহুল্লাহ প্রমুখ বর্ণনাসূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, ইবলিস তার বাহিনীসহ পৃথিবীতে এসে ঠাঁই গ্রহণ করে মানুষ আসার চার হাজার বছর আগে।”

“ওয়েইট! ওয়েইট! ইবলিস মালাইকাদের সাথে এসে নিজের জাতকে মারলো, এ কেমন কথা, সে তো নিজেও জিন ছিলো?” জাফর কথা শেষ না করতেই আসলান বললো।

জাফর বিরক্তি বোধ করলো, তারপর আবার শুরু করলো, “উপরে শুধু একজনের কথা বললাম। এবার অন্যদের কথা শোনো। হযরত ইবনে জারীর রাহিমাহুল্লাহ থেকে পাওয়া যায় যে, হযরত শাহাব বিন হাওশাব রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘ইবলিস ছিলো সেসব জিনদের অন্তর্গত, যাদেরকে মালাইকারা পরাস্ত করেছিলেন এবং শয়তানকে কতিপয় মালাইকা গ্রেফতার করে আসমানে নিয়ে গিয়েছিলেন।’

তাফসীরে তাবারীতে আরো পাওয়া যায় যে, হযরত সা’আদ বিন মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘মালাইকারা জিনদের সাথে যুদ্ধ করতেন। এমন এক যুদ্ধে ইবলিসকে গ্রেফতার করা হয়। তখন ইবলিস শিশু ছিলো এবং সে খেলা করছিলো। তারপর সে মালাইকাদের সাথে ইবাদত করতে থাকলো।”

“আচ্ছা তখন ইবলিসের নাম কী ছিলো? ইবলিস?” জাফর থামতেই আসলান আবার প্রশ্ন করলো।

জাফর জবাব দিতে দিতে প্রায় ক্লান্ত। এবার শেষ, এই চ্যাপ্টার বন্ধ করবে, নাহয় ছেলেটা সারারাত জাগিয়ে রাখবে।

“ইবলিসের আসল নাম আযাযীল। এ কথা আমি নিজে বলছি না। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন। কিন্তু হযরত আবুল মাসনা রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ইবলিসের নাম ছিলো ‘নায়িল’, কিন্তু অধিকাংশ আলীমগণ আযাযীল সঠিক বলে মনে করেন। আল্লামা ইবনে আবিদ দুনইয়া তাঁর বই ‘মাকায়িদুশ শাইত্বান’ বইয়ে এই দুইজনের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যাও এবারে তারিনকে তুলে নিয়ে এসো।” আসলানকে কোন প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে আদেশ করলো জাফর।

আসলানের মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। কী শুনলো লোকটির কাছ থেকে! সে কোন যুক্তি দেয়নি। সরাসরি রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছে। ভালো যদি থাকে, খারাপও থাকে, সেজন্য মালাইকার পাশাপাশি শয়তানও থাকে, আর শয়তানই এই বাড়ির উপর চেপে বসেছে।



আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে পড়তে পারেন গ্রন্থরাজ্য থেকে প্রকাশিত এম. জে. বাবুর  হরর থ্রিলার উপন্যাস “জিন” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

Featured Image: গ্রন্থরাজ্য

আপনার মন্তব্য লিখুন