Skip links

ফেসবুক মার্কেটিং-এর প্রাথমিক জ্ঞান

আদর্শ থেকে প্রকাশিত মো. ইকরাম এর "ফেসবুক মার্কেটিং" বই থেকে সংকলিত

পড়তে সময় লাগবে: 9 মিনিট

ভূমিকা

ব্যবসা প্রসারে প্রচলিত মার্কেটিং থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বেশি জনপ্রিয় ও কার্যকর। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিটা ব্যবসার জন্য অবশ্যম্ভাবী একটি টুলস। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং একদমই নতুন একটি সেক্টর। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার প্রসারের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নির্ভরশীলতা শুরু করলেও কী ধরনের কাজ করবে, কাকে প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়োগ করবে, কী কী করলে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো হবে, সে বিষয়গুলোতে এখনো সবার জ্ঞান স্বল্প।

তাই ডিজিটাল মার্কেটিং করে ব্যবসায় আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছে না, কিংবা সঠিক লোককে এ কাজের জন্য নিয়োগ করতে না পারার কারণে ডিজিটাল মার্কেটারের কাছ থেকে আশানুরূপ আউটপুট (ফলাফল) পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজগুলো সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে চোখ বন্ধ করে ডিজিটাল মার্কেটারের কথাকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে, তাদের কাজকে মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা ব্যবসার জন্য অশুভ দিন নিয়ে আসবে। 

বিগত দুই-তিন বছর ধরে ফেসবুককেন্দ্রিক নতুন নতুন উদ্যোক্তার জন্ম হচ্ছে। বেশির ভাগ উদ্যোগ সফল হলেও করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেননা, এ সময়টাতে অনেক গুণ বেড়ে গেছে অনলাইনভিত্তিক ছোট উদ্যোক্তা। যখন অনেক উদ্যোক্তা মিলে তাদের পণ্যের মার্কেটিং করছে ফেসবুকে, তখন নিউজফিডে কার পোস্ট জায়গা করে নেবে, কিংবা কোনো একটা পণ্য কেনার সময় কার কাছ থেকে পণ্য কিনবে, এ সিদ্ধান্ত নিতে সবাই অনেক অপশন পাচ্ছে। যখনই অনেক অপশন, তখনই হয় প্রতিযোগিতা। তাই এখন টিকে থাকতে জানতে হবে সঠিকভাবে অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি।

সঠিক ধারণা না থাকার কারণে শুধু ফেসবুক অ্যাডসকেই (পেইড অ্যাডভার্টাইজ) বড় ও ছোট উদ্যোক্তারা ডিজিটাল মার্কেটিং মনে করে হতাশাজনক ফলাফল পাচ্ছে। কোন পর্যায়ে ফেসবুক অ্যাডস সেলস নিয়ে আসবে, কিংবা মানুষের কাছে ফেসবুক পোস্ট রিচ বাড়লেই সেল বাড়ে না, এটুকু নলেজ না থাকার কারণেই ইনভেস্টমেন্ট বাড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দিন শেষে সেলসংক্রান্ত হতাশায় পড়ছে। 

এ বইয়ে অনলাইন মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে বড় অংশ ফেসবুককে কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করে সফলতা আনা যাবে, সে বিষয়ে অভিজ্ঞতার আলোকে গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে খুব স্মার্ট ক্যারিয়ার। সব অফিসেই খুব চাহিদাসম্পন্ন একটি দক্ষতা। বেকার জীবনের জন্য হতাশাতে বসে না থেকে, ফেসবুকে শুধু শুধু সময় নষ্ট না করে, ফেসবুকের নেশাকেই ক্যারিয়ার বানানোর জন্য চলুন না একটু সঠিক জ্ঞান নিয়ে নিজেকে দক্ষ করার চেষ্টা করি। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকের জোগান তো দিতে পারবেন আপনি নিজেই। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদাপূরণে নিজেকে দক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করুন। এ বইটি পুরোটাই আপনার মেন্টর হিসেবে পাশে থাকবে। আপনি যদি ফাইভারেও ফেসবুক মার্কেটার হিসেবে কাজ করতে চেষ্টা করেন, সেখানেও সফলভাবে কাজ করতে চাইলে এ বইটিকে পুরোপুরি অনুসরণ করুন। 

ফেসবুক মার্কেটিং - ফেসবুক থেকে টাকা উপার্জনের উপায়

Image Course: ফেসবুক মার্কেটিং বই

ফেসবুক নেশা নাকি পেশা?

ফেসবুকে আমরা সবাই আসক্ত হয়ে পড়ছি। অনেকে বলছেন কিংবা বিশ্বাস করছেন, ফেসবুক মানেই সময় নষ্টের জায়গা, ফেসবুক মানেই বর্তমান যুগে সব কুকর্মের স্থান, ফেসবুক মানেই হলো ইয়ং ছেলেমেয়েদের বিপথে যাওয়ার জায়গা। কথাগুলো কিন্তু মিথ্যা না। আসলে এ ঘটনাগুলো এখন ফেসবুকের মাধ্যমেই ঘটছে। পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছেলেমেয়ে ফেসবুকে সময় নষ্ট করছে। কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে ভালো ভালো ঘটনাও ঘটছে। অনেক অপরাধীকে পাকড়াও করা, রক্ত জোগাড় করা, বিভিন্নজনের বিপদে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে টাকা উঠিয়ে তার চিকিৎসা করানোসহ আরও অনেক ভালো কাজের উদাহরণ রয়েছে। 

সব কিছুর ভালো ও খারাপ দুটো দিকই রয়েছে। সচেতনতার অভাবে আমরা হয়তো খারাপ কাজেই বেশির ভাগ সময় ফেসবুককে ব্যবহার করছি, কিন্তু যারা অনলাইন প্রফেশনাল, তারা ফেসবুককে বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ মনে করছে। বিশ্বে এ মুহূর্তে ২ দশমিক  ৮ বিলিয়ন মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। এতসংখ্যক মানুষের  সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুককে ব্যবহার করার  সুযোগ রয়েছে। পৃথিবী এখন সত্যিকারের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে ফেসবুকের কল্যাণে।

ফেসবুকের কল্যাণে এখন বাংলাদেশে বসে আমেরিকার একজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব হচ্ছে, জানা যাচ্ছে ইউরোপের আপডেট। পুরো দুনিয়ার যোগাযোগ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এই সুবিধাটা কেউ কাজে লাগাচ্ছে। আর কেউ হয়তো আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করছে। আপনি কীভাবে কাজে লাগাবেন, সেটি আপনার সিদ্ধান্ত। এ বইটা মূলত তৈরি করেছি, যাতে ফেসবুকে অযথা সময় নষ্ট না করে সেই নেশাটাকে প্রফেশনালি কাজে লাগাতে পারে। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে ফেসবুক। সে ব্যাপারেই গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করছি পুরো বইটাতে। 

আমরা সবাই ফেসবুক ব্যবহারটা জানি। এখন আর কিছু বিষয় জেনে নিলে ফেসবুক থেকে মাসে ভালো একটা আয় করা সম্ভব। 

আগে জেনে নিই, ফেসবুক ব্যবহার জেনেই কীভাবে আয় বা ইনকাম করতে পারবেন? 

১. এফ-কমার্স: ফেসবুকে পেজ খুলেই বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা করা যায়। এটা এফ-কমার্স। যারা ফেসবুককে ব্যবহার করে এ ধরনের ব্যবসা করছেন, তাদের মাসিক আয় ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। কারও কারও ভালো বিনিয়োগ থাকার কারণে আরও বেশিও আয় হচ্ছে। সেটা ১ লাখ-২ লাখও হতে পারে। 

প্রোডাক্ট: শাড়ি, মেয়েদের ড্রেস, গিফট আইটেম ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ: ছোট ইনভেস্ট, প্রোডাক্ট সিলেক্ট, প্রোডাক্ট ডেলিভারি, মার্কেটিং। 

২. টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন: বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় ইনকাম সোর্স হচ্ছে টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন। এই অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধু ফেসবুককেই ব্যবহার করা হয়। এভাবে মাসে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

প্রোডাক্ট: টি-শার্ট, মগ, হুডি ইত্যাদি। 

চ্যালেঞ্জ: নিশ সিলেক্ট, অডিয়েন্স টার্গেট, মার্কেটিং। 

৩. হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশন: হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধু ফেসবুক মার্কেটিং করে আয় করা যায়। ইনকাম কয়টা সেল করেছেন, সেই অনুযায়ী বাড়তে থাকে। মাসে ৫ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া সম্ভব না। কারণ, নিয়মিত ইনকাম সম্ভব হবে না। 

প্রোডাক্ট: বিভিন্ন কোম্পানির হোস্টিং। 

চ্যালেঞ্জ: কনটেন্ট ডেভেলপ, সম্ভাব্য কাস্টমার খুঁজে বের করা, মার্কেটিং। 

৪. লোকাল ব্যবসা: লোকাল যেকোনো ব্যবসার প্রোফিট বৃদ্ধির জন্য এখন ফেসবুক মার্কেটিংকে সবাই ব্যবহার করছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, ফ্যাশন হাউস থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য ব্যবসায়ও ফেসবুকে মার্কেটিং করেই ইনকাম বৃদ্ধি করতে হয়। 

প্রোডাক্ট: সার্ভিস, ট্রেনিং, প্রোডাক্ট ইত্যাদি। 

চ্যালেঞ্জ: ইনভেস্ট, প্রোডাক্ট বাছাই, দক্ষ ব্যক্তি, মার্কেটিং। 

৫. লোকাল চাকরি: যেকোনো ব্যবসায় ফেসবুক মার্কেটিং এখন বড় একটি বাস্তবতা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ জন্য ফেসবুক মার্কেটিংয়ে এক্সপার্ট লোকজনের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনে এ সেক্টরে চাকরিতে নিচ্ছে। 

প্রোডাক্ট: সার্ভিস, ট্রেনিং, প্রোডাক্ট ইত্যাদি। 

চ্যালেঞ্জ: রিয়েল কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় প্রফিট বৃদ্ধি করা। 

৬. সাইটে ট্রাফিক আর সেখান থেকে অ্যাডসেন্স: একটা সাইটে যত বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন, তত সাইটের অ্যাডভার্টাইজ থেকে ইনকাম বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে ইনকাম ৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ হতে পারে।

প্রোডাক্ট: একটা ব্লগ সাইট। 

চ্যালেঞ্জ: নিশ সিলেক্ট, সাইট প্রস্তুত, কনটেন্ট ডেভেলপ, মার্কেটিং। 

৭. নিজের দক্ষতাকে ব্র্যান্ডিং: আপনি যদি নিজেকে দক্ষ মনে করেন, কিন্তু কোথাও চাকরি হচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে বলব, আপনি আপনার দক্ষতাকে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রমোশন চালান। ফেসবুকের মাধ্যমেই অনেকে দক্ষতার ব্যাপারে জানতে পারলে আপনার কাজের অভাব হবে না। কাজ আপনাকে খুঁজে বের করবে। তখন কাজ করে শেষ করতে পারবেন না। 

প্রোডাক্ট: নিজের দক্ষতা। 

চ্যালেঞ্জ: কনটেন্ট ডেভেলপ, দক্ষতা সম্পর্কিত গ্রুপগুলোতে অ্যাকটিভ থাকা, মার্কেটিং। 

৮. ফাইভারের গিগ সেল বৃদ্ধি: ফাইভারে গিগের যত বেশি প্রমোশন চালাবেন, ততই গিগ সেল বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ফেসবুক প্রমোশন চালাতেও সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। সঠিক জ্ঞান ছাড়া গিগ প্রমোশন চালালে ফাইভারে ইনকাম বাড়বে না, উল্টো ফাইভার অ্যাকাউন্টটাই নষ্ট হয়ে যাবে। 

প্রোডাক্ট: ফাইভার গিগ। 

চ্যালেঞ্জ: অডিয়েন্স টার্গেট, কনটেন্ট ডেভেলপ, মার্কেটিং। 

৯. মার্কেটপ্লেসে কাজ: ফেসবুক যেহেতু মার্কেটিংয়ের অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম, সেহেতু মার্কেটপ্লেসে এখন প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে। মাসে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে। 

প্রোডাক্ট: বায়ার রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী সার্ভিস 

চ্যালেঞ্জ: কাজের পূর্ব -অভিজ্ঞতার প্রমাণ, বায়ার কনভেন্স করতে পারা ও রিপোর্টিং। 

আর্টিকেলটি পড়তে কি আপনার ভালো লাগছে? তাহলে পড়তে পারেন আদর্শ থেকে প্রকাশিত মো. ইকরাম এর “ফেসবুক মার্কেটিং: কম খরচে বেশি আয়ের উপায়” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে
ফেসবুক মার্কেটিং বইয়ের ফিচার ইমেজ

ফেসবুকের মাধ্যমে ইনকাম করবেন বলেছি, কিন্তু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে পারেন কিংবা বিভিন্ন গ্রুপে গিয়ে লিংক শেয়ার করতে পারেন কিংবা পেজে লাইক বৃদ্ধি করতে পারেন দেখে ফেসবুক মার্কেটার  হয়ে গেছেন ভেবে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার দরকার নেই।

নিচের দক্ষতাগুলোকে ফেসবুক মার্কেটিংয়ের দক্ষতা ভাববেন না:

ফেসবুক মার্কেটিং - ফেসবুক থেকে টাকা অর্জনের উপায়
ফেসবুক মার্কেটিং – ফেসবুক থেকে টাকা অর্জনের উপায়

ফেসবুক মার্কেটার হিসেবে যে যে দক্ষতা থাকতে হবে 

১. লিড সংগ্রহ: ফেসবুকে লাইক বৃদ্ধি করে ব্যবসার জন্য লাভ নেই। লিড বৃদ্ধি করতে হবে। ধরুন, ওজন কমানোর কোনো ওষুধ বিক্রি করার জন্য পেজ খুলছেন। সে পেজে ১০ হাজার লাইক রয়েছে, যার মধ্যে ৯,৯৯৯টি হচ্ছে চিকন মানুষের লাইক। তাহলে তাদের কাছে জীবনে ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। যারা মোটা এবং মোটুত্ব নিয়ে চিন্তিত, তাদেরই আপনার পেজে নিয়ে আসা উচিত। এদের পেজে নিয়ে আসাকে লিড সংগ্রহ বলে। 

২. লিড পরিচর্যা: পেজে যখন লিড তৈরি হলো, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সচেতনতামূলক পোস্ট দিতে হবে। সেগুলো দেখে সেই পেজের মানুষজনের মধ্যে মোটা থেকে চিকন হওয়ার প্রোডাক্ট কেনার আগ্রহ তৈরি হবে। একেই বলে লিড নার্সিং বা লিড পরিচর্যা। 

৩. সেলস ফানেল: আমরা মার্কেটিংয়ের জন্য সব সময় প্রোডাক্টটি কেনা সম্পর্কিত পোস্টটাই দিয়ে থাকি। প্রোডাক্টের মূল্য, প্রোডাক্ট কেন ভালো— এ টাইপ পোস্ট প্রতিনিয়ত দিতেই থাকি। এটা করলে একটা পর্যায়ে সেল বন্ধ হয়ে যায় কিংবা সেল ভালো পাওয়া যায় না। প্রচুর পরিশ্রমের পরও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। খুব সহজ একটা ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি।

বাসাবাড়িতে পানির ট্যাংক  থাকে। ঘরের ভেতরে কল ছেড়ে রেখে দিয়েছেন। পানি পড়তে পড়তে একসময় ট্যাংকি খালি হয়ে যাবে। যে রকম কল ছেড়েছেন, সেই  রকম মোটর চালিয়ে নিয়মিত ট্যাংকিতেও পানি ভরতে হবে। মোটর  চালিয়ে পানি ওঠাবেন, এটাকে লিড সংগ্রহ বলে। ট্যাংকিতে পানি ভরেছেন, সেটাকে লিড পরিচর্যা বলে। পরে কল ছেড়েছেন, সেটা  হচ্ছে সেল শুরু হয়েছে। আর পুরো প্রক্রিয়াটিকে সেলস ফানেল বলে।  সেলস ফানেল নিয়ে এই বইয়ে একটি অধ্যায় করা হয়েছে, সেখানে আরও বিস্তারিত বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

৪. কনটেন্ট ডেভেলপ: কনটেন্ট বলতে আর্টিকেল, কোনো লেখার লিংক, গ্রাফিক, ভিডিও সবকিছুকে কনটেন্ট বলে। কনটেন্ট ডেভেলপের ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট সেল করা বিষয়টি মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করতে হবে। লিড সংগ্রহ, লিড নার্সিং, সেলস ফানেল তৈরির চিন্তা করে কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে। 

৫. সম্ভাব্য কাস্টমারের আচরণ বোঝা: সম্ভাব্য কাস্টমারের বয়স, সেক্স, তাদের কেনার ক্ষমতা, কেনার অভ্যাস, তাদের আচরণ বুঝতে হবে, সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে। সম্ভাব্য কাস্টমারদের ডেটা সংগ্রহ এবং তাদের আচরণটা অ্যানালাইস (বিশ্লেষণ) করা জানতে হবে। 

৬. নিউজ ফিড অ্যালগরিদম: ফেসবুকে কার ওয়ালে কোন পোস্ট দেখাবে, এটা একটা অ্যালগরিদম মেইনটেইন করে চলে; যেটাকে EDGE Rank বলে। আর এই অ্যালগরিদমের কারণেই আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের সবার পোস্ট আপনি দেখেন না, আপনার পোস্টও সবাই দেখে না। এটা না বুঝে মার্কেটিং করেন বলেই কোনো উপকার পান না। আপনি ১০০ গ্রুপে হয়তো মার্কেটিং করছেন, কিন্তু আসলে আপনার পোস্ট ফেসবুকে কারও ওয়ালে শো করছে না; শুধু এই অ্যালগরিদমটার কারণে। 

৭. সঠিক অডিয়েন্স টার্গেট করা: সঠিক অডিয়েন্স খুঁজে বের করে শুধু তাদের কাছেই মার্কেটিং করেন। এই সঠিক অডিয়েন্স কারা, সেটা বোঝার জন্য অনেক টুলস রয়েছে, যার ব্যবহার না জেনে অন্ধের মতো মার্কেটিং করলে সময়টাই নষ্ট হবে। ইনকাম আর হবে না।

৮. ফেসবুক অ্যাডস (পেইড অ্যাডভার্টাইজিং): ফেসবুকে পেইড অ্যাডভার্টাইজিং চমৎকার একটা মার্কেটিং সলিউশন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে মনে করা হয়, ১ ডলার খরচ করে কত বেশি মানুষের কাছে রিচ করা গেল, সেটাই বড় বিষয়। আসলে কত বেশি মানুষ পোস্টটা দেখল, সেটাতে আপনার সার্থকতা না, বরং কতজন আপনার প্রোডাক্টটি কিনল, সেটাতে মার্কেটিংয়ে সফলতা। সে জন্য সঠিক পেইড মার্কেটিংয়ের সঠিক পদ্ধতিগুলো শিখতে হবে। 

৯. রিমার্কেটিং টেকনিক: ফেসবুক পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কোনো প্রোমোশন যদি একই ব্যক্তির কাছে বারবার নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে প্রোডাক্টটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এ জন্য অডিয়েন্স ধরে রাখা, তাদের কাছে বারবার মার্কেটিং করে মেসেজ পৌঁছে দেওয়াটাই হচ্ছে রিমার্কেটিং। এই টেকনিকটি বিক্রির জন্য অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। 

১০. ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া: কোনো বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট হিসেবে অনলাইনে মানুষের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে পারাকে ইনফ্লুয়েন্সার বলে। ইনফ্লুয়েন্সার হলে মার্কেটিং করার কষ্ট কমে যায়। অল্প কষ্টে বেশি লাভ করা যায়। এই ইনফ্লুয় েন্সার হওয়ার টেকনিক জানা থাকতে হবে। মার্কেটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট এটি। 

১১. মাসিক মার্কেটিং রিপোর্টপর্যবেক্ষণ: প্রতিটা মার্কেটিংয়ের প্রতিটা ফলাফল দেখার ব্যবস্থা রয়েছে ফেসবুকের কিছু টুলসে। সেগুলো অ্যানালাইস করতে না জেনে মার্কেটিং করলে কোনো লাভ নেই। সেগুলো না জেনেই মার্কেটিং করলে অন্ধের মতো সমুদ্রে হাতড়ানো হবে। ক্লায়েন্টকে রিপোর্টিং করার জন্য এবং রিপোর্ট দেখে পরবর্তী পরিকল্পনা সাজানোর জন্য একজন মার্কেটারকে অবশ্যই রিপোর্ট বের করার টেকনিক জানা গুরুত্বপূর্ণ। 

১২. রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি: মাসিক রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী মাসের মার্কেটিং প্ল্যানটা সাজাতে হয়। কোন ধরনের কনটেন্ট মানুষকে আকর্ষণ করছে, কোন সময়ে মানুষজন অনলাইনে বেশি থাকে, সেগুলো জেনে মার্কেটিং করলে পরিশ্রম অনেক কমে যাবে, ইনকামটাও বাড়বে।

১৩. কম্পিটিটরদের অ্যানালাইস করা: আপনার যারা কম্পিটিটর, তাদের অ্যানালাইস না করে নামলে মার্কেটিং করে তো কোনো লাভ হবে না। হতাশাই শুধু পাবেন। কম্পিটিটরদের অ্যানালাইস করলে তাদের ক্লায়েন্টদের চাহিদা সম্পর্কে জানতে পারবেন, তাদের দুর্বলতা, শক্তির দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। কম্পিটিটরদের ডেটা অ্যানালাইস করেই আপনার মার্কেটিং প্ল্যান সাজালে সফলতার দেখা পাবেন।



আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে পড়তে পারেন আদর্শ থেকে প্রকাশিত মো. ইকরাম এর “ফেসবুক মার্কেটিং: কম খরচে বেশি আয়ের উপায়” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

Featured Image: lemonde.fr

আপনার মন্তব্য লিখুন