Skip links

ইলন মাস্ক: আমি অবশ্যই মঙ্গল গ্রহে মরতে চাই

মাতৃভাষা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত নেসার আমিনের "ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা এক বিস্ময়মানব ইলন মাস্ক" বই থেকে সংকলিত

পড়তে সময় লাগবে: 9 মিনিট

প্রশ্ন (প্রশ্নকর্তা: এইচ. ই. মোহাম্মদ আলজারজাবি): আমরা আমাদের জীবনে বিশ্বের বহু প্রান্তে বহু বিখ্যাত মানুষকে দেখেছি, যেমন, বীজগণিতের আবিষ্কারক আল-খাওয়ারেজমী, (ফোর্ড মোটর কোম্পানির মালিক) হেনরী ফোর্ড, (উড়োজাহাজের আবিষ্কারক) রাইট ভ্রাতাদ্বয়, (বিজ্ঞানী) আলবার্ট আইনস্টাইন এবং ইলন মাস্ক। আমরা দেখছি যে, আপনি সবসময় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আপনি এমন জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন যেখানে এখন পর্যন্ত কেউ যেতে পারেনি। আপনি নির্দিষ্ট কিছু শিল্পখাতে নব-উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন। যেমন, স্পেসএক্স-এর মাধ্যমে মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ এবং টেসলার মাধ্যমে কার (গাড়ি) শিল্প। আপনার জীবনের মিশন (লক্ষ্য) কী? আপনি যা করছেন তা কেন করছেন?

ইলন মাস্ক: আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি নিজেকে খুবই সম্মানিত মনে করছি। আমার সন্তানদের সঙ্গে ডুবাইতে আমার খুব ভালো সময় কাটছে। এটা আসলেই আনন্দের। যারা ডুবাই আসেননি আমি তাদেরকে এই শহর ভ্রমণ করার জন্য উৎসাহিত করছি। কী অসাধারণ এক শহর! ধন্যবাদ আপনাদেরকে।

আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন অবাক হয়ে ভাবতাম, আমাদের জীবনের অর্থ কী? যেমন, আমরা কেন পৃথিবীতে এসেছি? পৃথিবীটা আসলে কেমন? আমি অবশেষে এই উপসংহারে এসেছিলাম যে, আসলে বিষয়টা হলো সঠিক প্রশ্ন করার ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করা। আর আমরা যত বেশি মানবসচেতনতার পরিধি ও মাত্রা বাড়াতে পারবো, আমরা তত ভালোভাবে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করতে সক্ষম হবো। তাই, আমি মনে করি, সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে।

আর … এর মধ্যে কিছু হলো দীর্ঘস্থায়ী টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা ও টেকসই শক্তি উৎপাদন নিশ্চিতকরণ। সভ্যতার বিকাশের জন্য মহাকাশ আবিষ্কার – বহু গ্রহের প্রজাতি হওয়ার জন্য। আর মানুষ জাতির অস্তিত্ব দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষকে বহু গ্রহের বাসিন্দা হতেই হবে। অনেকটা মানুষের টিকে থাকার জন্য সমষ্টিগতভাবে জীবন বীমা করার মতো। জীবন সম্পর্কে আমরা যেমনটা জানি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ভেবে অনুপ্রাণিত হই যে, এটা আমাদের মধ্যে দুঃসাহসিকতা দেখানোর অনুভূতি তৈরি করে এবং এটা মানুষকে ভবিষ্যতের বিষয়ে উচ্ছ্বসিত করে তোলে।

আপনি যদি দুটো ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেন, একটি এমন যেখানে ভয়াবহ কিছু না ঘটা পর্যন্ত আমরা চিরকাল পৃথিবীতেই কাটিয়ে দিব। আরেকটি ভবিষ্যত হলো যেখানে আমরা বহু গ্রহে বসবাস করতে পারবো, এমনকি সৌরজগতেরও বাইরে। আমি মনে করি যে, মহাকাশ আবিষ্কার অবিশ্বাস্যভাবে উত্তেজনাপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক। আর সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার জন্য তো উত্তেজনাপূর্ণ কারণ থাকতে হবে। আপনি জানেন, জীবন কেবল সমস্যা সমাধানের বিষয় হতে পারে না। মানুষের এমন কিছু বিষয় অনুসন্ধান করা দরকার, যা অনুপ্রেরণাদায়ক এবং যা জীবনকে সার্থক করে তোলে।

 

প্রশ্ন: তো, আপনার কাছে জীবনের অর্থ কী? শুধ্ইু কি স্বপ্ন দেখা? না কি তা বাস্তবেও করে দেখানো? নাকি জীবন কোটি কোটি ডলারের একটি চুক্তি? ইলন মাস্কের কাছে জীবনের অর্থ আসলে কী?

ইলন মাস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছে এই প্রশ্নটি আরও বেশি বিভ্রান্তিকর বা ঝামেলাপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। বিশেষত যখন আপনি ভিডিও গেমগুলোর মতো কোনো কিছুর অগ্রগতি দেখেন। আপনি জানেন, চল্লিশ বছর আগে আপনার কাছে যে ভিডিও গেমস ছিল, তার সঙ্গে বর্তমানের ভিডিও গেমসের কতটা পার্থক্য! এখন, আপনি এমন এমন ভিডিও গেমস দেখতে পাবেন যেগুলো দেখে বাস্তব জগতে গেম খেলার মতো মনে হয়। আর কয়েক লাখ লোক এই গেমসগুলো একসঙ্গে খেলতে পারছে। এটা খুব মজার বিষয়, তাই না? সময়ের ধারাবাহিকতায় এমনটা হয়েছে। জীবনে সবই সম্ভব। আমি বলতে চাচ্ছি যে, বিশেষ অনেকগুলো বিষয়ে গতি বাড়ার এক ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

Image Course: Todd Anderson/ The New York Times

প্রশ্ন: আমরা যদি আমাদের জীবনের দিকে লক্ষ করি, তাহলে দেখবো যে বিগত একশ’ বছরে আমাদের জীবন বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। বিশেষ করে বিগত বিশ বছরে এটি দ্রুত থেকে দ্রুততর হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো আগামী বিশ, ত্রিশ কিংবা পঞ্চাশ বছর পর আমাদের জীবন কেমন হবে? বিশেষ করে আমাদের শিক্ষা, আমাদের পরিবহণব্যবস্থা। আপনার মতামত কী?

ইলন মাস্ক: আমি মনে করি, এই বিষয়গুলো ভবিষ্যদ্বাণী করা বেশ কঠিন। আপনি দেখেন, রাইট ভাতৃদ্বয় প্রথম ১৯০৩ সালে উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেন। তারও ৬৬ বছর পরে আমরা প্রথম কোনো মানুষকে চাঁদে অবতরণ করতে দেখলাম। আমি বলতে চাইছি, আপনি যদি ১৯০০ সালে মানুষকে চাঁদে অবতরণের অসুবিধা নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেন, তখন তা তাদের কাছে পুরোপুরি হাস্যকর মনে হতো। আপনি যদি তাদের সঙ্গে ইন্টারনেটের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করতেন, তবে তারা বুঝতোই না যে আপনি কী বিষয়ে কথা বলছেন? তাদের কাছে ব্যাপারটা পাগলামি মনে হতো।

কিন্তু আজকের দিনে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে একইসঙ্গে হাজারো মানুষ ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলতে পারছে। বিশ্বের কিছু কিছু জায়গায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগ দেয়া হয়। আপনি চাইলে যে কোনো সময় যে কারো সঙ্গে, এমনকি লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল (ভার্চুয়াল) যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। আপনি জানেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (সোশ্যাল মিডিয়া) সাহায্যে একইসঙ্গে আপনি লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।

একইভাবে আপনি (সার্চ ইঞ্জিন) গুগলকে যে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন। এটি জ্ঞানের এক বিস্ময়! আপনি গুগলকে প্রায় যে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং সাথে সাথেই উত্তর পেয়ে যাবেন। অতীতে এই বিষয়গুলোর পূর্বাভাস দেওয়াও অবিশ্বাস্য ব্যাপার ছিল। তাই, আমি মনে করি যে, আজকের দিনে বসে ৫০ বছর পর দুনিয়ার আকার (রূপ) কেমন হবে সে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বানী করলে তা ভুলও হতে পারে। আমরা শুধু ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারি।

আমি আশা করি, আমরা মঙ্গল গ্রহে এবং সম্ভবত মঙ্গল ও বৃহস্পতি ছাড়িয়ে যেতে পারবো। আমি আশা করি, আমরা হরমামেশাই সৌরজগত ভ্রমণ করতে পারবো। এখন আমরা নিকটবর্তী গ্রহে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি মনে করি, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে এটা সম্ভব হবে। আর বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই উত্তেজনাপূর্ণ একটা বিষয় হবে। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক অগ্রগতি লক্ষ করবো। আগামী দশ বছরের মধ্যেই এই অগ্রগতি দেখা যাবে।

 

প্রশ্ন: এখন থেকে মাত্র দশ বছর?

ইলন মাস্ক: হ্যাঁ। গাড়ি শিল্পে ব্যাপক বিপ্লব ঘটবে। গাড়িগুলো হবে স্ব-নিয়ন্ত্রিত। যেমন, টেসলা আজকে যে গাড়িগুলো নির্মাণ করছে সেগুলোতে স্ব-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা (সেল্ফ সেন্সর সিস্টেম) রয়েছে। ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত ব্যবস্থা থেকে এটি আরও নিরাপদ হবে। এটা শুধুমাত্র সফট্ওয়ার উন্নয়নের ব্যাপার। গত বছরের (২০১৬) অক্টোবর থেকে টেসলা এই কাজটাই করার চেষ্টা করছে। এখন অন্যান্য গাড়ি নির্মাতারাও আমাদের অনুসরণ করবে।

ফলে, গাড়িতে উঠা অনেকটা লিফটে উঠার মতো ব্যাপার হবে। আপনি শুধু তাকে বলবেন আপনি কোথায় যেতে চান, আর সেটা আপনাকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেখানে নিয়ে যাবে। বিষয়টা খুবই স্বাভাবিক মনে হবে। লিফ্টে উঠে আপনি যেমনভাবে বাটন ক্লিক করেন, তেমনিভাবে গাড়ি ওঠে বাটন টিপলেই সেটা আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্থানে নিয়ে যাবে। এভাবে ভবিষ্যতে ক্রমান্বয়ে গাড়িগুলো স্ব-নিয়ন্ত্রিত হবে।

আমি মনে করি, সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আমি সংকীর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা বলছি না। যেমন আমি স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ব্যবস্থাকে সংকীর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঘরে রাখতে চাই। এটা শুধু কিছু নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু গভীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (ডিপ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স), যাকে কখনও কখনও কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টিলিজেন্স) বলা হয়। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষের চেয়েও অনেক বেশি স্মার্ট (কার্যকর)। আমি মনে করি, এটা একটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি ডেকে আনবে।

 

প্রশ্ন: কেন এটা বিপজ্জনক হবে? আমি বোঝাতে চাইছি, দুটি মতামত রয়েছে – একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবতা সভ্যতাকে (এগিয়ে নিতে) সহায়তা করবে, আরেকটি মতামত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবতা সভ্যতার জন্য হুমকির কারণ হবে। কিন্তু কেন হুমকির কারণ হবে?

ইলন মাস্ক: আমি মনে করি, উভয়টাই ঘটবে। আগামী দশ থেকে বিশ বছরের মধ্যে অতি বুদ্ধিমান এলিয়েনেদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়ে যাবে।

আর্টিকেলটি পড়তে কি আপনার ভালো লাগছে? তাহলে পড়তে পারেন মাতৃভাষা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত নেসার আমিন এর “ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা এক বিস্ময়মানব ইলন মাস্ক” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

প্রশ্ন: আপনি বলছেন বিশ বছরের মধ্যে আমাদের পৃথিবীতে এলিয়েন থাকবে?

ইলন মাস্ক: আসলে ব্যাপারটা হলো ডিজিটাল সুপার ইন্টিলিজেন্স অনেকটা এলিয়েনের মতোই হবে।

 

প্রশ্ন: একবার আপনি বলেছিলেন যে আপনি মঙ্গল গ্রহে মরতে চান। কিন্তু কেন?

ইলন মাস্ক: বিষয়টা একটু পরিষ্কার করে বলি। আমি আসলে মঙ্গল গ্রহে মরতে চাই না। বিষয়টা অনেকটা এইরকম যে, আমরা সবাই তো একদিন মারা যাব। তখন আমাদেরকে যদি বলা হয় আমরা কোথায় মরতে চাই, তাহলে সেটা কেন মঙ্গল গ্রহে নয়? ধরুন, আপনি পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাহলে মঙ্গল গ্রহে মরতে সমস্যা কোথায়? বিষয়টা শুনে অবাক লাগছে তাই না? কিন্তু কোথায় আমি মরতে চাই এই পছন্দটা যদি আমাকে দেয়া হয়, তাহলে বলবো, আমি অবশ্যই মঙ্গল গ্রহে মরতে চাই। তাই বিষয়টা আসলে কেবলই মঙ্গলে মরতে চাওয়ার বিষয় নয়।

 

প্রশ্ন: চলুন, আমরা আবার পৃথিবীতে ফিরে আসি। আপনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন যে, ওয়াশিংটন ডিসির তলদেশে আপনি একটি টানেল তৈরি করতে চান। কিন্তু কেন?

ইলন মাস্ক: এটা আমি বহু বছর আগে বলেছি। শহরের মধ্যকার যানজট এড়াতে তলদেশ দিয়ে টানেলের নেটওয়ার্ক তৈরি একটা সমাধান হতে পারে। বিষয়টা হলো কত দ্রুত, কম খরচে ও নিরাপদ পন্থায় এই টানেল তৈরি করা যায়। তাই টানেল তৈরির প্রযুক্তি যদি উন্নত হয় এবং দ্রুত, কম খরচে ও নিরাপদে এটা তৈরি করা যায়, তাহলে তা ওয়াশিংটন ডিসির মতো অন্যান্য শহরের বাসিন্দাদেরকে যানজট থেকে মুক্তি দেবে।

 

প্রশ্ন: আমরা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। আমরা সবসময় দেখছি যে, আপনি সবসময় নির্দিষ্ট বক্সের বাইরে গিয়ে চিন্তা করেন। আপনার চিন্তা-ভাবনাগুলো (আইডিয়া) অনেক বড়। আপনি মহাকাশে যেতে চেয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে তা করতে পেরেছেন। আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে আপনি আপনার রকেটকে মাটিতে ফিরিয়ে আনতে চান। কিন্তু সাত থেকে আটবার আপনি ব্যর্থ হলেন। অবশেষে সেটি সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করলো। আপনার মাথায় এসব চিন্তা-ভাবনা কোথা থেকে এলো? কখনো কখনো এগুলো মানুষের সীমার উর্ধ্বে মনে হয়। আপনি সবসময় মানুষের সীমার উর্দ্ধে চলে যাচ্ছেন, কেন?

ইলন মাস্ক: আসলে ব্যাপারটা হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন প্রযুক্তি সমাধান দিতে পারে আমি সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করি এবং তারপর যথাসম্ভব সেই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করি। আমরা মহাকাশযানের ক্ষেত্রে, রকেটের পুনঃব্যবহারযোগ্যতার ওপর জোর দিচ্ছি।

আপনি কল্পনা করে দেখুন, যদি একটি উড়োজাহাজ কেবল একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়, তাহলে কোনো কোম্পানিই আর আকাশে বিমান উড্ডয়ন করতো না। কারণ ৭৪৭ মডেলের উড়োজাহাজের দাম প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, কিংবা ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মতো। কিন্তু এই উজোজাহাজ যদি একবারের জন্য ব্যবহার হতো, তাহলে কেউই এর টিকেটের জন্য এতো পরিমাণ ডলার খরচ করতে রাজি হতো না। যে কারণে বর্তমানে একটি বিমান কয়েক হাজার বার পুনরায় ব্যবহৃত হচ্ছে। যার ফলে বিমানে ভ্রমণ সাশ্রয়ী হয়ে ওঠেছে।

রকেটের ক্ষেত্রেও এই ব্যাপারটা সত্য। আমাদের একটি রকেটের দাম প্রায় ষাট মিলিয়ন ইউএস ডলার। এটি যদি মাত্র একবার ব্যবহার করা হয়, তাহলে অনেক খরচ পড়ে যায়। কিন্তু এটি যদি হাজারবার ব্যবহার করা যায়, তাহলে খরচ কমে আসে।

Image Course: The Verge

প্রশ্ন: ভালো-ভালো চিন্তা-ভাবনা (আইডিয়া) সরবরাহ করার জন্য আপনার চারপাশে একটি দল (টিম) থাকতে হয়। আপনি কীভাবে আপনার দল বেছে নেন? কিসের ভিত্তিতে এই দল তৈরি করেন?

ইলন মাস্ক: আমি যখন চাকরির সাক্ষাৎকার নেই তখন সবাইকে আমি একই ধরনের প্রশ্ন করি।

 

প্রশ্ন: কী প্রশ্ন করেন?

ইলন মাস্ক: আমি তাদেরকে বলি: আপনি আমাকে আপনার জীবনের গল্পটি বলুন এবং আপনি কোন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সিদ্ধান্ত নেন। আপনি সবচেয়ে কঠিন যে সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন এমন কয়েকটি কাজের কথা বলুন এবং আপনি কীভাবে সে সমস্যাগুলোর সমাধান করেছেন সে সম্পর্কেও আমাকে বলুন।

আমি মনে করি, (কাউকে যাচাই করার জন্য) এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানুষের মধ্যে যারা সত্যিই কোনো সমস্যার সমাধান করেছে, তারা জানে ঠিক কীভাবে তারা এর সমাধান করেছিল। কিন্তু যারা সমস্যা সমাধানের ভান করে, তারা কিন্তু একটা পর্যায়ে আটকে যায়।

 

প্রশ্ন: আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

ইলন মাস্ক: হ্যাঁ, অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। আমি সবচেয়ে খারাপ চ্যালেঞ্জটি বাছাই করার চেষ্টা করছি।  আমি চিন্তা করি কীভাবে সেই চ্যালেঞ্জ দূর করার জন্য সময় ব্যয় করবো। আমি মনে করি, বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে কাজের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা, যখন কর্মীরা ঠিক কী শুনতে চায় তা তারা আপনাকে জানায় না।

 

প্রশ্ন: হ্যাঁ, এই বিষয়টা আসলেই খুব কঠিন ব্যাপার। আমি আপনাকে শেষ একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে চাই। গোটা বিশ্বজুড়ে প্রচুর তরুণ রয়েছে যারা ইলন মাস্কের মতো হতে চায়। তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

ইলন মাস্ক: আমার একটা পরামর্শ হলো, জীবনে উন্নতি করতে হলে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো পদার্থবিদ্যা শেখা।

 

প্রশ্ন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এখানেই শেষ করছি। ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিট আপনার মতো কিংবদন্তীকে পেয়ে পূর্ণতা পেল। আপনি মানবতার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছেন। আপনার চিন্তা-ভাবনা, আপনার ভিশন, আপনার চ্যালেঞ্জ, আপনার আশাবাদের কথা আমাদেরকে জানানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

ইলন মাস্ক: আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই।

 

(ইলন মাস্ক উপরোক্ত সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডুবাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন উক্ত সামিটের চেয়ারম্যান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনিস্টার অব ক্যাবিনেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ফিউচার এইচ. ই. মোহাম্মদ আলজারজাবি। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন ‘ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপদ্রষ্টা এক বিস্ময়মানব ইলন মাস্ক’ গ্রন্থের লেখক নেসার আমিন। তথ্যসূত্র: অনুষ্ঠানের ভিডিও)



আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে পড়তে পারেন মাতৃভাষা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত নেসার আমিন এর “ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা এক বিস্ময়মানব ইলন মাস্ক” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

Featured Image: Business Insider

আপনার মন্তব্য লিখুন