Skip links

ইট দ্যাট ফ্রগ: ব্যাঙটি খেয়ে ফেলুন

সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত নেসার আমিনের "ইট দ্যাট ফ্রগ" বই থেকে সংকলিত

পড়তে সময় লাগবে: 12 মিনিট

ব্যাঙ সম্পর্কে সত্যতা

(মার্কিন লেখক) মার্ক টোয়েন একবার বলেছিলেন, প্রথমেই প্রত্যেক দিন সকালে আপনি যদি একটি জীবন্ত ব্যাঙ খেয়ে ফেলতে পারেন, তাহলে এই সন্তুষ্টি নিয়ে আপনার সারাদিন কাটবে যে, সারাদিনে সবচেয়ে খারাপ যা কিছু হওয়ার তা হয়ে গেছে।

আপনার ‘ব্যাঙ’ হলো আপনার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ, যে কাজটির ব্যাপারে আপনি (ইতোমধ্যে) কিছু করে না থাকলে সম্ভবত আপনি এতে গড়িমসি করতেন। এটি এমন একটি কাজ যা এই মুহূর্তে আপনার জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব এবং ফলাফল বয়ে আনতে পারে।
ব্যাঙ খাওয়ার প্রথম নিয়ম হলো : “আপনাকে যদি দুটি ব্যাঙ খেতে হয়, তাহলে প্রথমে কুৎসিত (কদর্য) ব্যাঙটিকে খান।”

অন্যভাবেও বলা যায় যে, যদি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে, তাহলে প্রথমেই বড়, কঠিন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই প্রথমেই করুন। অবিলম্বে (কোনো কাজ) শুরু করার জন্য নিজেকে সুশৃঙ্খল করে তুলুন এবং অন্য কিছুতে যাওয়ার আগে এই কাজটি শেষ করার জন্য অটল থাকুন।

এটিকে একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে ভাবুন। ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে একে দেখতে থাকুন। সহজ কোনো কাজ দিয়ে শুরু করার লোভ সংবরণ করুন। সবসময় মনে রাখবেন যে, আপনাকে প্রতিদিনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে – যদি আপনি সব কাজ একসাথে করতে চান তাহলে কোন কাজটি আপনি এক্ষুনি করবেন, আর কোন কাজটি আপনি পরে করবেন।

ব্যাঙ খাওয়ার দ্বিতীয় নিয়ম হলো : “যদি আপনাকে এক বসাতেই একটি জীবন্ত ব্যাঙ খেতে হয়, তাহলে (মনে রাখবেন) এটি আপনার জন্য বসে থাকবে না এবং আপনি বেশিক্ষণ এর দিকে তাকিয়েও থাকতে পারবেন না।”

সর্বোচ্চ স্তরের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা অর্জনের মূলমন্ত্র হলো – জীবনভর প্রত্যেক সকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিকে আঁকড়ে ধরার অভ্যাস গড়ে তোলা। অন্য কাজে জড়ানোর আগে এবং এ সম্পর্কে অতিরিক্ত চিন্তা করার জন্য সময় না নিয়ে আপনাকে প্রতিদিন অবশ্যই ‘ব্যাঙ খাওয়ার’ অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

Eat that Frog ইট দ্যাট ফ্রগ বইয়ের জন্য টেবিলের উপর ব্যাঙের ছবি

Image Course: getclockwise.com

টেবিলটিকে সাজিয়ে নিন

“জয়ের জন্য একজন ব্যক্তির অবশ্যই যে গুণ থাকতে হয় তা হলো : উদ্দেশ্যের নির্দিষ্টতা। একজন মানুষ যা চায় সে বিষয়ে তার জ্ঞান থাকা এবং সেটি অর্জনের জন্য একটি তীব্র আকাক্সক্ষা পোষণ করা।”
– নেপোলিয়ন হিল

নিজের ‘ব্যাঙটিকে’ নির্ধারণ করা এবং সেটি খেতে শুরু করার আগে আপনাকে স্থির সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কী অর্জন করতে চান। ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতার (কর্মক্ষমতা) ক্ষেত্রে পরিষ্কার ধারণা রাখা সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেন কিছু লোক তাদের কাজ দ্রুত করতে পারে তার প্রধান কারণ হলো তারা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা রাখেন এবং সেগুলো থেকে তারা বিচ্যুত হন না।

আপনি কী চান এবং সেটি অর্জনের জন্য আপনাকে কী করতে হবে সে বিষয়ে আপনি যত বেশি পরিষ্কার ধারণা রাখবেন, দীর্ঘসূত্রতা অতিক্রম করা, আপনার ব্যাঙ খাওয়া (কঠিন কাজটি করা) এবং আপনার সামনে যে কাজ রয়েছে তা শেষ করা আপনার জন্য তত সহজ হবে।

দীর্ঘসূত্রতা (ঢিলেমি) এবং প্রেরণার অভাবের প্রধান হলো আপনি কী করতে যাচ্ছেন, কীভাবে সেটি করতে চান এবং কী কারণে সেটি করতে চান সে বিষয়ে আপনার অস্পষ্টতা, দ্বিধা এবং আবছা আবছা ভাব। আপনার সর্বশক্তি দিয়ে আপনাকে এই সাধারণ অবস্থাকে পরিহার করতে হবে। (এর পরিবর্তে) আপনার প্রধান লক্ষ্য ও কাজের ব্যাপারে আপনাকে অধিক পরিষ্কার ধারণা লাভের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সফলতার প্রধান সূত্র হলো : “আপনার চিন্তাগুলো কাগজে লিখে রাখুন।”

(গবেষণায় দেখা গেছে) মাত্র তিন শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের (জীবনের) লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে লিখিত রয়েছে। এসব লোকেরা তাদের সমান এমনকি তাদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত ও সামর্থ্যবান লোকের চেয়ে পাঁচ থেকে দশগুণ বেশি কাজ করতে পারেন। যে কোনো কারণেই হোক তারা (শিক্ষিত ও সামর্থ্যবান লোকেরা) আসলে কী করতে চায় তা লিখে রাখেন না।

লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী সূত্র রয়েছে, যে সূত্র আপনি আপনার পরবর্তী জীবনে কাজে লাগাতে পারেন। সাতটি সহজ উপায়ে এটি গঠিত হয়। যদি আপনি বর্তমানে এটি ব্যবহার না করে থাকেন, তবে এর যেকোনো একটি পদক্ষেপ আপনার উৎপাদনশীলতাকে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ করে ফেলতে পারে। এই সাতটি সূত্র ব্যবহার করে আমার অনেক গ্র্যাজুয়েট কয়েক বছর কিংবা কয়েক মাসের মধ্যেই বিস্ময়করভাবে তাদের আয়কে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পেরেছে।

প্রথম পদক্ষেপ : আপনি আসলে ঠিক কী (অর্জন করতে) চান সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন। আপনি নিজে নিজেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, অথবা আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার (বস) সাথে বসে আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করতে থাকুন, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি কী অর্জন করতে চান এবং আপনার প্রাধান্যের জায়গাগুলো কাচের মতো পরিষ্কার স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। এটা অবাক করা বিষয় যে, অনেক লোকই দিনের পর দিন কম মূল্যবান কাজ করে যাচ্ছে। কারণ তারা তাদের ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) সাথে (লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে) স্বচ্ছভাবে কোনো আলোচনা করে না।

নিয়ম : সময়ের সবচেয়ে বাজে ব্যবহারের উদাহরণ হলোÑ এমন কোনো কাজ ভালোভাবে করা যা করা মোটেই দরকার ছিল না।

স্টিফেন কভে বলেছেন যে, “সফলতার মই বেয়ে উপরে ওঠার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে মইটি যথাযথভাবে বিল্ডিংয়ের সাথে লাগানো আছে কি না।”

দ্বিতীয় পদক্ষেপ : আপনি যা চিন্তা করছেন তা কাগজে লিখে রাখুন। যখন আপনি আপনার লক্ষ্য লিখে রাখলেন, আপনি তখন একে কাচের মতো স্বচ্ছ করে নিলেন এবং একে একটি স্পর্শ করার মতো রূপ দিলেন। আপনি এমন কিছু তৈরি করলেন যা আপনি স্পর্শ করতে পারছেন এবং দেখতে পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য লেখা থাকে না, তাকে (লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য বলা যায় না, বরং) বলা যায় শুধু একটি ইচ্ছা বা কল্পনা (ফ্যান্টাসি)। এর পেছনে কোনো শক্তি থাকে না। অলিখিত লক্ষ্য (ব্যক্তিকে) দ্বিধা, অস্পষ্টতা, ভুল নির্দেশনা এবং অগণিত ভুলের দিকে নিয়ে যায়।

তৃতীয় পদক্ষেপ : আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ (ডেডলাইন) করুন। যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ভাগ ভাগ করে তারিখ নির্ধারণ করুন।

সময়সীমা নির্ধারণ করা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কোনো তাড়া থাকে না। বাস্তবে এর কোনো শুরু বা শেষ থাকে না। কোনো কর্তব্য (অ্যাসাইনমেন্ট) বা দায়িত্ব সম্পাদনের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা (ডেডলাইন) না থাকলে আপনি স্বাভাবিকভাবেই তা করতে গড়িমসি করবেন এবং কাজটির খুব কমই সম্পাদন করবেন।

চতুর্থ পদক্ষেপ : আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে যেসব কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তার একটি তালিকা তৈরি করুন।

নতুন কোনো কাজের কথা মনে আসলে তা আপনার তালিকায় যুক্ত করুন। পরিপূর্ণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত তালিকাটি তৈরি করতে থাকুন। তালিকাটি বড় বড় কাজ কিংবা উদ্দেশ্যের একটি চাক্ষুষ চিত্র আপনার সামনে উপস্থাপন করবে। দৌঁড়ানোর জন্য এটি আপনাকে একটি পথ (ট্র্যাক) দেখিয়ে দেবে। এর ফলে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে। কারণ আপনি আপনার লক্ষ্যকে (উত্তমভাবে) সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং এটি অর্জনের জন্য একটি (নির্দিষ্ট) সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

পঞ্চম পদক্ষেপ : তালিকাকে পরিকল্পনায় সংগঠিত করুন।

কাজের প্রাধান্য ও ক্রম নির্ধারণের মাধ্যমে আপনার তালিকাটিকে সংগঠিত করুন। আপনাকে কোন কাজটি আগে এবং কোন কাজটি পরে করতে হবে তা নির্ধারণ করতে কয়েক মিনিট সময় নিন। কোন কাজের আগে কোন কাজ করবেন এবং তারপরে কী করবেন তা ঠিক করুন। সবচেয়ে ভালো হয়, আপনার পরিকল্পনাকে দর্শনীয়ভাবে সাজিয়ে রাখলে।

একটি কাগজের শিটে বক্স ও বৃত্তের সিরিজ দিয়ে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করতে পারেন, যেখানে রেখা ও তির চিহ্নের মাধ্যমে একটি কাজের সাথে অন্য একটি কাজের সম্পর্ক দেখানো যাবে। আপনি অবাক হয়ে লক্ষ করবেন যে, পরিকল্পনাটিকে ছোট ছোট একক কাজে ভাগ করে রাখলে লক্ষ্যে পৌঁছা কত সহজ হয়ে যায়।

একটি লিখিত লক্ষ্য এবং একটি সংগঠিত কর্ম-পরিকল্পনা থাকলে, যারা মাথার মধ্যে পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে তাদের চেয়ে আপনি অধিক কর্মক্ষম ও দক্ষ হয়ে যাবেন।

ষষ্ঠ পদক্ষেপ : আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

(পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য) কিছু করুন। যেকোনো কিছু করুন। বলিষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন করা কোনো সাধারণ পরিকল্পনা কিছুই করা হয়নি এমন অসাধারণ পরিকল্পনা থেকে অনেক ভালো। আপনার জন্য যেকোনো সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে কার্য সম্পাদন করাটাই সবকিছু।

সপ্তম পদক্ষেপ : প্রতিদিন এমন কিছু করুন যা আপনাকে আপনার প্রধান লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করবে।

এই কাজগুলো দিয়ে আপনার প্রতিদিনকার কার্য-তালিকা (শিডিউল) গড়ে তুলুন। একটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্দিষ্ট করা কয়েকটি পৃষ্ঠা (প্রতিদিন) পড়তে পারেন। আপনি নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু সম্ভাব্য লোক বা গ্রাহকের সাথে কথা বলতে পারেন। (দিনের) একটি নির্দিষ্ট সময়ে শারীরিক ব্যায়ামে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। আপনি বিদেশি ভাষা থেকে নির্দিষ্ট করে নতুন কিছু শব্দ শিখতে পারেন। যেভাবেই হোক, কখনই (এই অনুশীলন) একদিনও বাদ দেবেন না।

(জীবনে) এগিয়ে যেতে নিজেকে (প্রতিনিয়ত) ধাক্কা দিতে থাকুন। একবার চলতে শুরু করলে, চলতেই থাকুন। থেমে যাবেন না। এই সিদ্ধান্ত, এই শৃঙ্খলা লক্ষ্য অর্জনে আপনার গতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করবে এবং আপনার উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

লিখিত লক্ষ্যের শক্তি

স্পষ্ট ও লিখিত লক্ষ্যগুলো আপনার চিন্তার জগতে চমৎকার প্রভাব তৈরি করে। তারা আপনাকে অনুপ্রাণিত করে তোলে এবং আপনার কর্মে প্রাণচাঞ্চল্য আনয়ন করে। এগুলো আপনার সৃজনশীলতাকে উদ্দীপ্ত করে তোলে, আপনার মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে এবং অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনার গড়িমসি করার অভ্যাসকে অতিক্রম করতে অনেক বেশি সম্ভব সাহায্য করে।

লক্ষ্য হলো (আপনার উদ্দেশ্য) অর্জনের চুল্লির জ্বালানি। আপনার লক্ষ্য যত বড় ও পরিষ্কার হবে, আপনি সেগুলো অর্জনে তত বেশি উদ্দীপ্ত হয়ে উঠবেন। আপনার লক্ষ্যগুলো নিয়ে যত বেশি ভাববেন, আপনার ভেতরকার চালিকাশক্তি এবং সেগুলো সম্পন্ন করার জন্য আপনার আকাক্সক্ষা তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

আপনার লক্ষ্যগুলো নিয়ে ভাবুন এবং প্রতিদিন সেগুলো পর্যালোচনা (রিভিউ) করুন। প্রতিদিন যখন কাজ শুরু করবেন, তখন আপনার এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যটি অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি আপনি করতে পারবেন সেটি সম্পাদনের জন্য পদক্ষেপ নিন।

ব্যাঙটিকে খেয়ে ফেলুন!

১. এক্ষুনি একটি পরিষ্কার কাগজের শিট হাতে নিন এবং পরের বছর অর্জন করতে চান এমন দশটি লক্ষ্যের একটি তালিকা তৈরি করুন। যদিও এক বছর চলে গেছে, তবুও আপনার লক্ষ্যগুলো লিখে রাখুন। সেগুলো এখন বাস্তবতা। লেখার সময় বর্তমান কাল, ইতিবাচকতা এবং উত্তম পুরুষ ব্যবহার করুন, যাতে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার অবচেতন মন এগুলো গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এভাবে লিখতে পারেন : “আমি প্রতি বছর ‘ক’ পরিমাণ টাকা/ডলার উপার্জন করবো।” কিংবা “আমি আমার ওজন ‘ক’ কেজি/পাউন্ড বৃদ্ধি করবো।” কিংবা “আমি এই রকম এবং ঐ রকম কার/গাড়ি চালাবো।”

২. তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দশটি লক্ষ্য পর্যালোচনা করুন এবং সেখান থেকে একটি লক্ষ্য বাছাই করুন, যেটি অর্জন করতে পারলে আপনার জীবনে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি হবে। সেই লক্ষ্যটি যাই হোক না কেন সেটি একটি ভিন্ন কাগজের শিটে লিখে রাখুন। সেটি অর্জনের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করুন, একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন, পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু করুন, যাতে আপনি আপনার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন। এই অনুশীলন একাই আপনার জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে!

আর্টিকেলটি পড়তে কি আপনার ভালো লাগছে? তাহলে পড়তে পারেন সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত নেসার আমিন অনুদিত ব্রায়ান ট্রেসির “ইট দ্যাট ফ্রগ” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

প্রতিদিনের অগ্রিম পরিকল্পনা গ্রহণ করুন

“পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতকে বর্তমানে নিয়ে আসা, যাতে আপনি এখনই সে বিষয়ে কিছু করতে পারেন।”
– এলান লাকেইন

পুরানো সেই প্রশ্নটি (সম্ভবত) আপনি শুনেছেন, “কীভাবে আপনি একটি হাতি খেতে পারবেন? উত্তরটা হলো : একেবারে এক কামড়ে!”

আপনি কীভাবে আপনার সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কুৎসিত ব্যাঙকে খেতে পারবেন? একই উপায়ে : আপনি একে ভাগ করে নিন – সুনির্দিষ্ট ধাপে-ধাপে কাজের মধ্যে, তারপর প্রথম কাজটি শুরু করুন।

দীর্ঘসূত্রতা অতিক্রম করা এবং আপনার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আপনার মন, আপনার চিন্তা করা, পরিকল্পনা করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম (অস্ত্র)। লক্ষ্য নির্ধারণ করা, পরিকল্পনা তৈরি করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার সামর্থ্য আপনার জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। চিন্তা করা এবং পরিকল্পনা করার বিশেষ কাজ আপনার চিন্তার জগতকে উন্মোচন করে, আপনার সৃজনশীলতার নলে চাপ দেয় এবং আপনার মানসিক ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে।

এলেক্স ম্যাক্কেঞ্জি লিখেছেন, “সকল ব্যর্থতার মূল কারণ হলো পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করা।”

কোনো কাজ শুরুর আগে আপনার একটি সুন্দর পরিকল্পনা তৈরি করতে পারার দক্ষতা হলো আপনার সার্বিক সক্ষমতার একটি পরিচায়ক (পরিমাপ)। আপনার নিকট যত ভালো পরিকল্পনা থাকবে, আপনার জন্য তত সহজ হবে দীর্ঘসূত্রতা অতিক্রম করা, কাজ শুরু করে দেওয়া, আপনার ব্যাঙটিকে খাওয়া এবং তারপর এগিয়ে যেতে থাকা।

শক্তি-সামর্থ্যরে বিনিয়োগ থেকে বিনিময় বৃদ্ধি করুন

আপনার কাজের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হওয়া উচিত আপনার মানসিক, আবেগজাত এবং শারীরিক শক্তির বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য বিনিময় (রিটার্ন) বুঝে নেওয়া। ভালো সংবাদ হলো যে, পরিকল্পনায় আপনার প্রত্যেকটি মিনিট কার্য সম্পাদনে কমপক্ষে আপনার দশ মিনিট সময় বাঁচিয়ে দেয়। আপনার প্রতিদিনকার পরিকল্পনা সাজাতে দশ থেকে বারো মিনিট সময় লাগে। কিন্তু সময়ের এই অল্প বিনিয়োগ আপনার দুই ঘণ্টা সময়ের (১০০-১২০ মিনিট) অপচয় রোধ করবে এবং সারাদিনে এলোমেলো প্রচেষ্টা থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।

আপনি সম্ভবত সিক্স ‘পি’ ফর্মুলা সম্পর্কে শুনেছেন। এতে বলা হয়েছে : “Proper Prior Planning Prevents Poor Performance.” (অর্থাৎ আগে থেকে ঠিক করা সঠিক পরিকল্পনা ব্যক্তিকে দুর্বল কার্য সম্পাদন থেকে রক্ষা করে।)

যখন আপনি ভেবে দেখবেন আপনার উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা কতটা সহায়ক, তখন অবাক হয়ে দেখবেন কত কম লোক প্রতিদিন তা অনুশীলন করে থাকে। আসলে পরিকল্পনা করা অনেক সহজ। আপনার যা দরকার তা হলো এক টুকরো কাগজ এবং একটি কলম। সবচেয়ে বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন পাম পাইলট, কম্পিউটার প্রোগ্রাম কিংবা টাইম প্ল্যানার এই নীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত। নীতিটি বসে থেকে কোনো কাজ শুরু করার আগে যা যা করতে হবে তার একটি তালিকা তৈরি করার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বেশি সময় কাজ করুন

সবসময় তালিকা অনুযায়ী কাজ করুন। যখনই নতুন কোনো বিষয় আসবে সেটি শুরু করার আগে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। তালিকা থেকে ক্রমাগতভাবে কাজ শুরু করার প্রথম দিন থেকেই আপনি আপনার উৎপাদনশীলতা এবং আউটপুট (সম্পাদিত কাজ) ২৫ শতাংশ বা তারও অধিক (দুই ঘণ্টারও বেশি সময়) বৃদ্ধি করতে পারেন।

আগের রাতে কিংবা আগের দিনের শেষে আপনার তালিকাটি তৈরি করতে পারেন। যেসব কাজ এখনো করতে পারেননি তা পরের দিনের তালিকায় নিয়ে যান এবং তারপর পরের দিন যা যা করতে হবে তার সবকিছু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। যখন আপনি আগের দিন সন্ধ্যায় কিংবা রাতে তালিকাটি তৈরি করবেন, তখন ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত আপনার অবচেতন মন সেই তালিকার ওপর কাজ করবে। প্রায়ই আপনি বড় কোনো ধারণা (আইডিয়া) এবং অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে জেগে উঠবেন, যা ব্যবহার করে আপনি প্রথমে যা ভেবেছিলেন তারচেয়েও দ্রুত ও ভালোভাবে কাজটি করতে পারবেন।

আপনাকে যা যা করতে হবে তার অগ্রিম তালিকা তৈরি করতে আপনি যত বেশি সময় নিবেন, আপনি তত বেশি কার্যক্ষম ও দক্ষ হয়ে ওঠবেন।

ভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য ভিন্ন তালিকা

ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য আপনার ভিন্ন ভিন্ন তালিকা প্রয়োজন। প্রথমত, আপনার একটি প্রধান তালিকা (মাস্টার লিস্ট) থাকা উচিত, যাতে আপনি ভবিষ্যতে যা যা করার কথা চিন্তা করেছেন তার সবই লিখে রাখবেন। এই জায়গায় (তালিকা) আপনার মাথায় যত ধারণা (আইডিয়া) আসবে, যত নতুন কাজ ও দায়িত্ব আসবে তার সবই ধারণ করবেন। পরে আপনি সেই তালিকাটি সংক্ষিপ্ত করে নিতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, আপনার একটি মাসিক (অগ্রাধিকার) তালিকা থাকা উচিত, যা আগের মাসের শেষে পরের মাসের জন্য তৈরি করবেন। এই তালিকায় আপনার প্রধান তালিকা থেকে কিছু বিষয় আসতে পারে।

তৃতীয়ত, আপনার একটি সাপ্তাহিক (অগ্রাধিকার) তালিকা থাকা উচিত, যেখানে আপনার পুরো সপ্তাহের অগ্রিম পরিকল্পনা থাকবে। যখন আপনি চলতি সপ্তাহের কাজ করে যাবেন, তখন এই তালিকাটি নির্মাণাধীন থাকবে।

এভাবে পদ্ধতিগতভাবে সময়ের পরিকল্পনা আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। অনেকেই আমাকে বলেছেন যে, সপ্তাহের শেষে পরবর্তী সপ্তাহের জন্য পরিকল্পনা তৈরির জন্য কয়েকটি ঘণ্টা ব্যয় করার অভ্যাস নাটকীয়ভাবে তাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং তাদের জীবন সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে। এই কৌশলটি আপনার জন্যও একইভাবে কাজ করবে।

সবশেষে, আপনি আপনার মাসিক ও সাপ্তাহিক তালিকা থেকে আইটেমগুলো আপনার দৈনিক তালিকায় স্থানান্তর করবেন। এগুলো হলো সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ যেগুলো আপনি সেই দিন সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন।

যেহেতু আপনি সারাদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, সেহেতু যে কাজগুলো করা হয়ে গেছে সেই আইটেমগুলো তালিকা থেকে কেটে (বাদ) দিন। এর ফলে আপনি কাজ সম্পাদনের একটি চাক্ষুষ চিত্র (ভিজ্যুয়াল পিকচার) পেয়ে যাবেন। এটা আপনার মধ্যে সফলতার অনুভূতি তৈরি করবে এবং আপনি সামনের দিকে এগুতে থাকবেন। তালিকার মাধ্যমে নিজের কাজের অগ্রগতি দেখা আপনাকে অনুপ্রাণিত করে তুলবে এবং আপনাকে শক্তি যোগাবে। এটা আপনার নিজের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্ম-সম্মান বৃদ্ধি করবে। অবিচলিত ও দৃশ্যমান অগ্রগতি আপনাকে সামনের দিকে ধাবিত করবে এবং দীর্ঘসূত্রতা অতিক্রম করতে সহায়তা করবে।

একটি কাজের (প্রকল্প) পরিকল্পনা

যখন আপনার সামনে যেকোনো ধরনের প্রকল্প (কাজ) আসবে, তখন সেই প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে তার একটি তালিকা তৈরি করুন। অগ্রাধিকার নির্ণয় ও কাজের ক্রম ঠিক করার মাধ্যমে প্রকল্পটি সংগঠিত করুন। একটি কাগজে কিংবা একটি কম্পিউটারে আপনার সামনে প্রকল্পটি সাজিয়ে রাখুন, যাতে আপনি (প্রকল্পের) প্রত্যেকটি পদক্ষেপ ও কাজ দেখতে পারেন। তারপর এক সময়ে একটি কাজ করতে থাকুন। এভাবে আপনি কত বেশি কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন তা দেখে আপনি অবাক হবেন।

যেহেতু আপনি আপনার তালিকা অনুযায়ী কাজ করছেন, সেহেতু আপনি নিজেকে অনেক বেশি কর্মক্ষম ও শক্তিশালী অনুভব করবেন। আপনার নিজের জীবনের ওপর আপনার কর্তৃত্ব রয়েছেÑ এমনটা অনুভব করবেন। এর ফলে আরও বেশি কাজ করার জন্য আপনি স্বাভাবিকভাবেই অনুপ্রাণিত হবেন। আপনি আরও ভালোভাবে এবং আরও সৃজনশীলভাবে চিন্তা করতে পারবেন এবং আপনি আরও বেশি ও ভালো অন্তর্দৃষ্টি পাবেন, যা আরও বেশি দ্রুতভাবে কাজ করার জন্য আপনাকে সক্ষম করে তুলবে।

আপনার (অগ্রাধিকার) তালিকা থেকে ক্রমাগতভাবে কাজ করে যাওয়ার কারণে, আপনি এগিয়ে যাওয়ার একটি ইতিবাচক গতিবেগ অনুভব করবেন, যা দীর্ঘসূত্রতা অতিক্রম করার জন্য আপনাকে সামর্থ্যবান করে তুলবে। এগিয়ে যাওয়ার এই অনুভূতি আপনাকে অনেক বেশি কর্মচাঞ্চল্য এনে দেবে, যার ফলে আপনি সারাদিন ধরে কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।

ব্যক্তিগত দক্ষতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধি হলো ১০/৯০ বিধি। এই বিধিতে বলা হয় যে, কোনো কাজ শুরুর আগে আপনি প্রথম দশ শতাংশ সময় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কাজ গুছিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যয় করবেন, এর ফলে আপনি যখন ঐ কাজটি শুরু করবেন তখন সেই কাজটি করার জন্য আপনি ৯০ শতাংশ সময় বাঁচাতে পারবেন। আপনার নিজের ক্ষেত্রে এর সত্যতা প্রমাণ করতে একবার বিধিটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

যখন আপনি দিনের অগ্রিম পরিকল্পনা তৈরি করবেন, তখন আপনি দেখবেন কাজটি করা এবং কাজটি করতে থাকা কত সহজ। (দেখবেন) আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কাজটি কত দ্রুত এবং মসৃণভাবে হয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কর্মদক্ষ অনুভব করবেন। সম্ভাব্য চিন্তার চেয়েও আপনি বেশি দ্রুত কাজ করতে পারছেন। এমনকি, আপনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন।

ব্যাঙটিকে খেয়ে ফেলুন!

১. প্রতিটি দিন, সপ্তাহ ও মাসের অগ্রিম পরিকল্পনা তৈরির মাধ্যমে আজকের দিনটি শুরু করুন। একটি নোটপ্যাড কিংবা কাগজের শিট হাতে নিন, কিংবা আপনার পিডিএ বা ব্ল্যাকবেরি ব্যবহার করুন এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আপনাকে যা যা করতে হবে তার সবকিছুর তালিকা করুন। কোনো নতুন বিষয় আসলে তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনার সকল প্রকল্পের, বড় ও বহুমুখী কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন, যেগুলো আপনার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

২. প্রধান লক্ষ্য, প্রকল্প কিংবা অগ্রাধিকার পাওয়া কাজ, যে কাজ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটি তারপর করবেন, কোনটি প্রথমে করবেন, কোনটি দ্বিতীয়ত করবেন এবং এরপর কোনটি করবেন তার একটি দৃশ্যপট এঁকে রাখুন। সমাপ্তিটা মাথায় রেখে (পরিকল্পনার) পেছন দিক থেকে কাজ শুরু করুন।

আপনার চিন্তাটা কাগজে লিখে রাখুন। সবসময় একটি (অগ্রাধিকার) তালিকা অনুযায়ী কাজ করুন। আপনি অবাক হয়ে লক্ষ করবেন যে, আপনি কত কর্মক্ষম হয়ে গেছেন এবং ব্যাঙ খাওয়া (সবচেয়ে বড় ও কঠিন কাজটি করা) কত সহজ হয়ে গেছে।



আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে পড়তে পারেন সূচীপত্র থেকে প্রকাশিত নেসার আমিন অনুদিত ব্রায়ান ট্রেসির “ইট দ্যাট ফ্রগ” বইটি। আর্টিকেলটি মূলত এই বইয়েরই নির্বাচিত একটি অংশ।
বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন রকমারির এই লিঙ্কে অথবা যোগাযোগ করুন বুকশেয়ারের ইনবক্সে

Featured Image: teamly.com

আপনার মন্তব্য লিখুন